২০২৬ থেকে পারফরম্যান্স রিভিউয়ে যুক্ত হচ্ছে ‘এআই ইমপ্যাক্ট’; দক্ষতা না থাকলে পদোন্নতি বন্ধ
প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে টিকে থাকতে নিজেদের কর্মীবাহিনীর ওপর কঠোর শর্তারোপ করেছে সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্ট মেটা। কোম্পানিটি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ২০২৬ সাল থেকে কর্মীদের পারফরম্যান্স মূল্যায়নের প্রধান মাপকাঠি হবে ‘এআই-ড্রাইভেন ইমপ্যাক্ট’ বা এআই ব্যবহারের প্রভাব। অর্থাৎ, যারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে কাজে গতি আনতে পারবেন না, তাদের জন্য মেটাতে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে। সম্প্রতি মেটার ‘হেড অব পিপল’ জ্যানেল গেল এক অভ্যন্তরীণ মেমোর মাধ্যমে এই নতুন নীতি ঘোষণা করেছেন।
১৬ নভেম্বর ২০২৫ (আপডেট: ২২ জানুয়ারি ২০২৬) এর তথ্য অনুযায়ী, মেটা এখন আর এআই দক্ষতাকে কেবল ‘অতিরিক্ত গুণ’ হিসেবে দেখছে না, বরং এটিকে প্রতিদিনের কাজের একটি অপরিহার্য অংশ বা ‘কোর এক্সপেক্টেশন’ হিসেবে গণ্য করছে। ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে শুরু করে মার্কেটিং ও ডিজাইন—প্রতিটি বিভাগের কর্মীকে প্রমাণ করতে হবে যে তারা কীভাবে এআই ব্যবহার করে উৎপাদনশীলতা বাড়িয়েছেন।
মেটার নতুন এআই নীতি ও অভ্যন্তরীণ পরিবর্তন:
- পারফরম্যান্স রিভিউ ২০২৬: ২০২৬ সাল থেকে কর্মীদের পদোন্নতি এবং বোনাস সরাসরি নির্ভর করবে তারা কতটুকু কার্যকরভাবে এআই ব্যবহার করতে পারছেন তার ওপর।
- মেটামেট (Metamate): মেটা তাদের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ এআই টুল ‘মেটামেট’ ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার পথে হাঁটছে। এই টুলটি কর্মীদের কাজের সারাংশ তৈরি এবং বার্ষিক পারফরম্যান্স রিভিউ ড্রাফট করতে সাহায্য করে।
- সুপারইন্টেলিজেন্ট ল্যাবস: মেটা সম্প্রতি ‘সুপারইন্টেলিজেন্ট ল্যাবস’ নামে একটি বিশেষ ইউনিট গঠন করেছে। এর লক্ষ্য হলো মানুষের বুদ্ধিমত্তাকে ছাড়িয়ে যাওয়া এআই তৈরি করা। এই ইউনিটকে আরও গতিশীল করতে ইতিমধ্যেই ৬০০ কর্মীকে ছাঁটাই করে নতুন এআই বিশেষজ্ঞদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
- অটোমেশন ও ছাঁটাই: কোম্পানি স্পষ্ট করেছে যে, যেসব কাজ এআই দিয়ে সহজে করা সম্ভব, সেই পদের কর্মীদের সরিয়ে সেখানে এআই দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীদের গুরুত্ব দেওয়া হবে।
এক নজরে মেটার এআই নির্ভর কর্মপরিকল্পনা:
| বিষয় | বিবরণ ও সময়সীমা |
| নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতি | এআই ইমপ্যাক্ট-ভিত্তিক গ্রেডিং (২০২৬ থেকে)। |
| প্রধান অভ্যন্তরীণ টুল | মেটামেট (Metamate) ও এআই পারফরম্যান্স অ্যাসিস্ট্যান্ট। |
| সবচেয়ে বেশি প্রভাব | ইঞ্জিনিয়ারিং, মার্কেটিং ও প্রোডাক্ট ডিজাইন বিভাগ। |
| প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য | একটি সম্পূর্ণ ‘এআই-নেটিভ’ অর্গানাইজেশনে রূপান্তর। |
ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ ও বিতর্ক:
মেটার এই আগ্রাসী নীতি কর্মীদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগেরও জন্ম দিয়েছে। অনেক কর্মী অভিযোগ করেছেন যে, মেটামেট টুলটি এখনো শতভাগ নির্ভুল নয় এবং এটি অনেক সময় কাজের ভুল সারসংক্ষেপ তৈরি করে। তবে মার্ক জাকারবার্গের নেতৃত্বাধীন প্রতিষ্ঠানটি এই ঝুঁকিতে পিছপা হতে নারাজ। তাদের লক্ষ্য হলো বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের জন্য এমন একটি এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট তৈরি করা, যা প্রতিটি ক্ষেত্রে মানুষের বিকল্প হিসেবে কাজ করবে।
















