বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে দেওয়া ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, গ্রিনল্যান্ড দখলে তিনি কোনো ধরনের সামরিক শক্তি প্রয়োগ করবেন না। তবে একই সঙ্গে ডেনমার্কের অধীন এই ভূখণ্ডের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন বলে আবারও জোর দেন তিনি। সুইজারল্যান্ডের ডাভোসে দেওয়া এই বক্তব্যে ইউরোপ, ন্যাটো, বাণিজ্যনীতি, জ্বালানি ও বৈশ্বিক রাজনীতি নিয়ে নিজের অবস্থানও তুলে ধরেন ট্রাম্প।
ভাষণে ট্রাম্প বলেন, অনেকেই মনে করেছিলেন তিনি গ্রিনল্যান্ড দখলে শক্তি ব্যবহার করবেন, কিন্তু তার প্রয়োজন নেই এবং তিনি তা চানও না। তবে গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে দাবি করেন তিনি। তার মতে, বিশাল ও নিরাপত্তাহীন এই দ্বীপ উত্তর আমেরিকার অংশ এবং যুক্তরাষ্ট্রই একমাত্র দেশ যারা এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে।
ডাভোসে বক্তব্য দেওয়ার পর ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে বৈঠকের কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প জানান, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ভবিষ্যৎ চুক্তির একটি কাঠামোতে পৌঁছানো গেছে। যদিও সেই কাঠামোর বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। একই সঙ্গে ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর আরোপের হুমকি দেওয়া শুল্ক আপাতত তুলে নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
ন্যাটো প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, এই জোট যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং যথাযথ সুবিধা দিচ্ছে না। তিনি ইঙ্গিত দেন, প্রয়োজনে কঠোর অবস্থান নিলে যুক্তরাষ্ট্র অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠতে পারে, যদিও তিনি সে পথে যেতে চান না।
অর্থনীতি নিয়ে বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রই বৈশ্বিক অর্থনীতির চালিকাশক্তি। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ভালো করলে পুরো বিশ্বই লাভবান হয়। তিনি শুল্ক আরোপ ও সুরক্ষাবাদী নীতির পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, এতে বাণিজ্য ঘাটতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং দেশীয় উৎপাদন বেড়েছে।
ইউরোপের পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, অভিবাসন ও সবুজ জ্বালানি নীতির কারণে ইউরোপ সঠিক পথে নেই। তিনি নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে ব্যঙ্গ করে বলেন, যেখানে বেশি উইন্ডমিল, সেখানে অর্থনৈতিক ক্ষতিও বেশি।
জ্বালানি নীতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র এখন পারমাণবিক জ্বালানির দিকে জোর দিচ্ছে। তার মতে, আধুনিক প্রযুক্তির কারণে পারমাণবিক শক্তি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদ ও সাশ্রয়ী।
ভেনেজুয়েলা প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, সমাজতান্ত্রিক শাসনের কারণে দেশটি সমস্যায় পড়লেও এখন দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর পথে। যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি কোম্পানির সহযোগিতায় দেশটির অর্থনীতি শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
কানাডার প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কানাডা বহু সুবিধা পেলেও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে না। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা ছাড়া কানাডার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা কঠিন।
ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি জানান, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি। তার দাবি, উভয় পক্ষই চুক্তিতে আগ্রহী এবং এই যুদ্ধ বন্ধ হওয়া জরুরি, কারণ এতে অকারণে মানুষের প্রাণ যাচ্ছে।
ডাভোসের এই ভাষণে ট্রাম্পের বক্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। গ্রিনল্যান্ড ইস্যু থেকে শুরু করে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও নিরাপত্তা—সব ক্ষেত্রেই তার কঠোর ও বিতর্কিত অবস্থান নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
















