উগান্ডায় সাম্প্রতিক প্রেসিডেন্ট ও সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সহিংসতা, দমন-পীড়ন ও ফলাফল বিতর্কের পর দেশটির রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ইয়োওয়েরি মুসেভেনিকে বিজয়ী ঘোষণা করার পর প্রধান বিরোধী প্রার্থী রবার্ট কিয়াগুলানি, যিনি ববি ওয়াইন নামে পরিচিত, ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছেন। আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সরকারের দমননীতির পাশাপাশি নির্বাচনে কারচুপির সুস্পষ্ট প্রমাণ তাঁদের হাতে রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষণায় বলা হয়, ৮১ বছর বয়সী প্রেসিডেন্ট মুসেভেনি প্রায় ৭২ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ববি ওয়াইন পেয়েছেন প্রায় ২৫ শতাংশ ভোট। তবে ববি ওয়াইনের দল ন্যাশনাল ইউনিটি প্ল্যাটফর্ম এবং আরও দুই প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, ভোটকেন্দ্রে ব্যালট বাক্স ভরা, ভোটার ও কর্মীদের ভয়ভীতি দেখানো এবং বিরোধী দলের এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার মতো অনিয়ম হয়েছে। জাতিসংঘও জানিয়েছে, নির্বাচনজুড়ে ব্যাপক দমন-পীড়ন ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটেছে।
নির্বাচনের ফল ঘোষণার দিন ববি ওয়াইন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ভিডিও বার্তায় জানান, পুলিশ ও অজ্ঞাত ব্যক্তিরা তাঁর বাসায় অভিযান চালানোর পর তিনি আত্মগোপনে যেতে বাধ্য হন। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ফল বাস্তবে ভোটকেন্দ্রে যা ঘটেছে, তার প্রতিফলন নয় এবং এই ফল সম্পূর্ণ ভুয়া।
সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থে চার দিনের জন্য ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হয়েছিল, যাতে গুজব ও বিশৃঙ্খলা না ছড়ায়। সরকার আরও জানায়, বুতামবালা এলাকায় সংঘর্ষে সাতজন নিহত হয়েছেন, যেখানে বিক্ষোভকারীরা একটি ভোটকেন্দ্র ও পুলিশ পোস্টে হামলার চেষ্টা করেছিল। তবে ববি ওয়াইনের দল এই বক্তব্য অস্বীকার করে বলেছে, পুলিশের গুলিতে তাঁদের দলের এক শীর্ষ নেতার বাড়িতে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন।
আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ববি ওয়াইন অভিযোগ করেন, সরকার পরিকল্পিতভাবে পরিবর্তনের পক্ষে থাকা মানুষদের ভয় দেখাতে ও চুপ করাতে অভিযান চালাচ্ছে। তিনি বলেন, তাঁদের কাছে নির্বাচন-পূর্ব, নির্বাচনকালীন এবং নির্বাচন-পরবর্তী অনিয়মের প্রমাণ রয়েছে। তাঁর দাবি, ইন্টারনেট বন্ধ থাকার সুযোগ নিয়ে এবার শুধু পুলিশ বা সেনা নয়, নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারাও মুসেভেনির পক্ষে ব্যালটে টিক চিহ্ন দিয়েছেন। এসব ঘটনার ভিডিও তাঁদের হাতে রয়েছে বলে তিনি জানান।
ববি ওয়াইন আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান যে ফল ঘোষণা করেছেন, তা কেন্দ্রের ফলাফলের কাগজপত্রের সঙ্গে মিলছে না। তাঁদের এজেন্টদের কাছে থাকা কাগজে ভিন্ন ফল ছিল। তাই তাঁরা এই নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছেন।
আইনি পথ বেছে নেওয়া প্রসঙ্গে ববি ওয়াইন বলেন, উগান্ডার বিচারব্যবস্থা স্বাধীন নয় এবং আগের নির্বাচন নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট যে সংস্কারের নির্দেশ দিয়েছিল, তা কখনোই বাস্তবায়ন হয়নি। সে কারণে আদালতের ওপর তাঁদের কোনো আস্থা নেই। তিনি জনগণকে সংবিধানের আওতায় শান্তিপূর্ণ ও অহিংস প্রতিবাদের আহ্বান জানান এবং বলেন, এটাই গণতন্ত্র রক্ষার একমাত্র পথ।
আত্মগোপনে থাকার কারণ ব্যাখ্যা করে ববি ওয়াইন বলেন, তাঁর বাড়ি কার্যত পুলিশ ও সেনাবাহিনী দখল করে রেখেছে। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, ফটক ভেঙে ফেলা হয়েছে। এই অবস্থায় ঘরে থাকলে তাঁর কণ্ঠ আন্তর্জাতিক মহলে পৌঁছাত না। তিনি বলেন, দেশে আইনের শাসন নেই বলেই তাঁকে অহিংস কিন্তু দৃঢ় প্রতিরোধ চালিয়ে যেতে হচ্ছে।
















