জোট ভাঙনের প্রভাবে ৭ আসনে বড় ধাক্কা, বিএনপির জয়ের সম্ভাবনা বেড়েছে
ইসলামি ও সমমনা দলগুলোর নির্বাচনি জোট ভেঙে যাওয়ায় বরিশাল বিভাগের ২১টি আসনে ভোটযুদ্ধে পিছিয়ে পড়েছে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জামায়াতে ইসলামী। বিশেষ করে যেসব আসনে বিএনপির সঙ্গে তাদের কঠিন লড়াই হওয়ার কথা ছিল, সেখানেই দৃশ্যপট নাটকীয়ভাবে বদলে গেছে।
ইসলামি ও সমমনা দলগুলোর নির্বাচনি ঐক্য ভেঙে যাওয়ায় বরিশাল বিভাগের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। বরিশালের ২১টি সংসদীয় আসনের মধ্যে যে ৭টিতে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যৌথভাবে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল, সেসব আসনেই তারা এখন পিছিয়ে পড়েছে বলে স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।
এর বিপরীতে, এসব আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তথা ধানের শীষ প্রার্থীদের জয়ের সম্ভাবনা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পুরো বরিশাল বিভাগে চরমোনাই–জামায়াত জোট এখন হাতে গোনা এক–দুটি আসন পাবে কি না, তা নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছে।
কেন ভাঙল জোট
ভোটের মাঠে শুরুতে আলোচনায় ছিল ইসলামি ও সমমনা ১১ দলের ঐক্য। এই জোটের প্রধান শক্তি ছিল জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। আসন ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রথমে জামায়াত ৪৫টি আসন ছাড়ের প্রস্তাব দেয়। তবে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২৬৮ আসনে এককভাবে নির্বাচন করার ঘোষণা দেয়। এর মধ্য দিয়েই ভেঙে যায় ইসলামি ও সমমনা দলগুলোর ঐক্য।
সবচেয়ে বেশি প্রভাব যেখানে
জোট ভাঙনের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে বরিশাল অঞ্চলের ৭টি আসনে—
- পিরোজপুর-১ ও পিরোজপুর-২
- পটুয়াখালী-২
- পিরোজপুর-৩
- বরিশাল-৫ (সদর)
- বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ)
- পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া–রাঙ্গাবালী)
এই আসনগুলোতে আগে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের সম্মিলিত ভোট বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। এখন আলাদা আলাদা প্রার্থী হওয়ায় ভোট বিভাজনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা সরাসরি সুবিধা দিচ্ছে বিএনপিকে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির মুফতি মুহাম্মদ ফয়জুল করিম বলেন, “আমরা ক্ষমতার রাজনীতি নয়, নীতির রাজনীতি করি। ইসলাম কায়েমের সংগ্রামই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও বরিশাল সদর আসনের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মুয়াজ্জম হোসাইন হেলাল বলেন, “এখনো সময় শেষ হয়নি। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি আমাদের অনুকূলে যাবে বলে আশা রাখি।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামি জোট ভাঙনের ফলে বরিশালের নির্বাচনি সমীকরণে বড় সুবিধা পেয়েছে বিএনপি। আর চরমোনাই ও জামায়াতের জন্য এবারের নির্বাচন হয়ে উঠছে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় কঠিন।
















