নারীদের বাদ দিয়ে উন্নয়ন সম্ভব নয়; পলিসি ডায়ালগে দাদু ও দাদির আদর্শের কথা স্মরণে জাইমা
বাংলাদেশ যদি সত্যিকারের টেকসই উন্নয়ন চায়, তবে নারীর ক্ষমতায়নকে শুধু শিক্ষা বা চাকরির নীতিতে সীমাবদ্ধ না রেখে ঘর ও মানসিকতায় পৌঁছাতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত এক পলিসি ডায়ালগে তিনি এই কথা বলেন।
১৯ জানুয়ারি ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৫ ডিসেম্বর প্রায় দেড় দশক পর পরিবারের সঙ্গে দেশে ফেরার পর এটিই ছিল কোনো প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে জাইমা রহমানের প্রথম বক্তব্য। ‘জাতি গঠনে নারী: নীতি, সম্ভাবনা এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে তিনি অত্যন্ত বিনয়ের সাথে জানান যে, তিনি এখানে এসেছেন সবার কথা শুনতে, শিখতে এবং জাতির কল্যাণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে।
বক্তব্যের মূল উল্লেখযোগ্য অংশসমূহ:
- ব্যক্তিগত অবস্থান: জাইমা রহমান বলেন, “আমি এমন কেউ নই যে সব সমস্যার সমাধান জানি। তবে সমাজ ও দেশের জন্য কিছু করার আন্তরিকতা আমার আছে। আমি এসেছি শুনতে, শিখতে এবং সবার সঙ্গে মিলে কাজ করতে।”
- জিয়াউর রহমানের দর্শন: তিনি তাঁর দাদা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান স্মরণ করে বলেন, নারীদের বাদ দিয়ে উন্নয়ন পূর্ণ হতে পারে না—এই বিশ্বাস থেকেই তিনি দেশে প্রথম ‘মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তাঁর হাত ধরেই পোশাক খাতে লাখো নারীর কর্মসংস্থান নিশ্চিত হয়েছিল।
- খালেদা জিয়ার শিক্ষা নীতি: দাদি বেগম খালেদা জিয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কন্যাশিক্ষাকে অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে খালেদা জিয়া বিনামূল্যে মাধ্যমিক শিক্ষা ও উপবৃত্তি চালু করেছিলেন, যা বিশ্বজুড়ে একটি রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃত।
- নারী নিরাপত্তা ও ডিজিটাল সাক্ষরতা: প্রশ্নোত্তর পর্বে জাইমা বলেন, বর্তমানে তরুণীরা অনলাইন ও অফলাইন—উভয় ক্ষেত্রেই ঝুঁকিতে আছে। তিনি ডিজিটাল লিটারেসি, আত্মরক্ষামূলক দক্ষতা এবং আইনি সুরক্ষার দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ:
| আলোচক | পরিচয় |
| আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী | স্থায়ী কমিটির সদস্য, বিএনপি |
| রূপালী হক চৌধুরী | এমডি, বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ |
| ফাহমিদা খাতুন | নির্বাহী পরিচালক, সিপিডি |
| তামারা হাসান আবেদ | এমডি, ব্র্যাক এন্টারপ্রাইজেস |
জাইমা রহমান তাঁর বক্তব্যে নারীর মর্যাদা রক্ষায় সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের পাশাপাশি উন্নত সড়কবাতি, কার্যকর রিপোর্টিং ব্যবস্থা এবং আদালতের দীর্ঘসূত্রতা কমানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তাঁর সাবলীল ও নীতি-নির্ধারণী বক্তব্য উপস্থিত সুধীমহলে বেশ প্রশংসিত হয়।
















