নির্বাচন নিয়ে কোনো চাপ নেই, আওয়ামী লীগকে ভোটে আনতে কেউ বলছে না
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম বলেন, নির্বাচন নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই। আওয়ামী লীগ কী করতে পারে তা নভেম্বরেই দেখা গেছে, এবার নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ।
নির্বাচন নিয়ে কোনো চাপ নেই এবং আওয়ামী লীগ–কে ভোটে নিয়ে আসার জন্যও কেউ বলছে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম। শুক্রবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রেসসচিব বলেন, “আওয়ামী লীগকে ভোটে আনতে কেউ বলছে না। তারা কি এমন কোনো সুযোগ রেখে গেছে? তারা কি গুম–খুনের জন্য কখনো দুঃখ প্রকাশ করেছে? এসব তো সারা বিশ্ব জানে।”
তিনি আরও বলেন, “আওয়ামী লীগের লোকেরাও এবার নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবে। গত সাড়ে ১৫ বছরে তারা নিজেরাই ভোট দিতে পারেনি। তাদের ভোট পুলিশ দিয়ে দিয়েছে।”
গণভোট নিয়ে সমালোচনাকারীদের উদ্দেশে শফিকুল আলম বলেন, এ বিষয়ে সমালোচনা যারা করছেন, তাদের অনেকের জানার পরিধি সীমিত। সকালে আখাউড়ায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “বিশ্বের সব দেশেই সরকার গণভোটে পক্ষ নেয়—কখনো ‘হ্যাঁ’, কখনো ‘না’।”
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কারের পক্ষে। “দেশে যেন শেখ হাসিনার মতো আর কোনো দৈত্য–দানব তৈরি না হয়, সে জন্যই আমরা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে বলছি। ব্যাংক লুট, চুরি–চামারি বন্ধ করতে হলে এই সংস্কার দরকার।”
নির্বাচন নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই উল্লেখ করে প্রেসসচিব বলেন, “নির্বাচন খুব ভালোভাবে হবে। কেবিনেট মিটিংয়েও এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানিয়েছেন—নিরাপত্তাসহ সব প্রস্তুতি সম্পন্ন। রিটার্নিং অফিসার, পোলিং অফিসার—সব কার্যক্রম শেষ। এখন আমরা ভোটের অপেক্ষায়।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো শঙ্কার বিষয়ে তিনি বলেন, “ইউটিউব–টিকটকে কিছু লোক ভিউ পাওয়ার জন্য ভয় দেখাচ্ছে। এগুলো সম্পূর্ণ অমূলক।”
আওয়ামী লীগের সক্ষমতা নিয়ে মন্তব্য করে শফিকুল আলম বলেন, “আওয়ামী লীগ কী পারে, তা আমরা নভেম্বর মাসেই দেখেছি। তারা দুই–একটা ককটেল মারতে পারে, বাসে আগুন দিতে পারে, গির্জায় ককটেল ছুড়তে পারে। এর বাইরে তারা আর কী করবে? তাদের মিছিলে কেউ যায় না। যারা ডলার পাচার করেছে, তারা কি আবার ডলার খরচ করে লোক নামাবে? তারা জানে—তাদের নেত্রী আর ফিরছেন না।”
এদিন তিনি আখাউড়ার খড়মপুর এলাকায় শাহ সৈয়দ আহমদ গেছুদারাজ (র.)–এর মাজার জিয়ারত করেন, তিতাস নদীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন এবং বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন
















