আসন্ন গণভোটে সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার প্রচারণাকে রাষ্ট্রের জন্য ‘ফরজে কেফায়া’ বা অপরিহার্য সামষ্টিক দায়িত্ব হিসেবে অভিহিত করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) দুপুরে সিলেটে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা ও অশুভ শক্তির পরাজয় নিশ্চিত করতে সাধারণ মানুষকে এই প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করার বিকল্প নেই।
‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রয়োজনীয়তা ও জনমত তৈরি
সিলেট সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এই সভায় স্বাস্থ্য উপদেষ্টা কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন যেন তারা সাধারণ নাগরিকদের প্রাত্যহিক জীবনে গণভোটের ইতিবাচক প্রভাবগুলো বুঝিয়ে বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, “নাগরিকদের সংবিধানের জটিল তত্ত্ব বোঝানোর প্রয়োজন নেই; বরং এই ভোট কীভাবে তাদের জীবনমান উন্নত করবে এবং সুশাসন নিশ্চিত করবে, তা বুঝিয়ে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে জনমত তৈরি করতে হবে।”
নির্বাচন বিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি
নূরজাহান বেগম আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, একটি বিশেষ পক্ষ চায় না দেশে নির্বাচন হোক এবং তারা এই প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। তিনি বলেন, “জনগণ যত বেশি এই গণভোটে অংশ নেবে এবং ‘হ্যাঁ’ ভোট দেবে, অশুভ ও নির্বাচন বিরোধী শক্তি তত বেশি পরাজিত হবে। বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করা এখন সময়ের দাবি।”
প্রচারণায় এনজিও ও সরকারি দপ্তরের সমন্বয়
সভায় স্বাস্থ্য উপদেষ্টা কেবল সরকারি দপ্তরই নয়, বরং এনজিওগুলোকেও গণভোটের প্রচারণায় কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন। তিনি কর্মকর্তাদের সতর্ক করে বলেন, নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে কোনো ধরনের গুজব ছড়ালে তা দ্রুত নিরসন করতে হবে।
সিলেটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সারওয়ার আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাইদুর রহমানসহ বিভাগের ঊর্ধ্বতন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের দিনই ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এই গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
















