বিএনপির চেয়ারম্যান হওয়ার পর ড. ইউনূসের সঙ্গে প্রথম বৈঠক; ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে আজ সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন বিএনপির নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে দেশে ফেরার পর এটিই প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তার প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক।
দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে দেশে ফেরার পর প্রথমবারের মতো অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) যেকোনো সময় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে বিএনপির উচ্চ পর্যায়ের সূত্র নিশ্চিত করেছে।
চেয়ারম্যান হিসেবে প্রথম বৈঠক
গত ৩০ ডিসেম্বর বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর ৯ জানুয়ারি দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তারেক রহমানকে বিএনপির চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়। দলের এই শীর্ষ পদে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে এটিই তার প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক। এর আগে গত বছরের ১৩ জুন লন্ডন সফরকালে ড. ইউনূসের সঙ্গে তারেক রহমানের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল, তখন তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছিলেন।
বৈঠকের বিষয়টি নিয়ে গুঞ্জন থাকলেও দলের ভেতরে এখনও গোপনীয়তা বজায় রাখা হচ্ছে। এ বিষয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “এগুলো শুনছি আমি, তবে নিশ্চিত নই।” দলের মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খানও জানিয়েছেন যে, এমন বৈঠকের বিষয়ে তার কাছে এখনও সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই।
আলোচনার সম্ভাব্য বিষয়বস্তু
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এই বৈঠকটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে নির্বাচনে সব দলের সমান সুযোগ নিশ্চিত করা, লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তারেক রহমান প্রধান উপদেষ্টার কাছে দলের অবস্থান তুলে ধরতে পারেন। এছাড়া ‘জুলাই সনদ’ এবং নির্বাচন পরবর্তী জাতীয় ঐক্যের বিষয়েও আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমান দেশে ফেরার দিন বিমানবন্দরে বসেই প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন। আজকের এই সরাসরি বৈঠকটি দুই পক্ষের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ক এবং নির্বাচনী রোডম্যাপ বাস্তবায়নে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।















