রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে দ্রুত সমাধানের সম্ভাবনা ক্ষীণ; আরাকান আর্মির মতো ‘নন-স্টেট অ্যাক্টরদের’ সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের আইনি জটিলতা স্পষ্ট করলেন তৌহিদ হোসেন।
আমি এখনও বিশ্বাস করি যে মিয়ানমারের সংকট সমাধানে অনেক সময় লাগবে। এর মধ্যে অনেক কিছু পরিবর্তন হবে এবং আমাদের আল্টিমেটলি আরও দীর্ঘ সময়ের প্রস্তুতি নিয়েই এগোতে হবে, যাতে সমস্যার সমাধান করতে পারি। সেই চেষ্টা চলছে।
মিয়ানমারের চলমান অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এবং রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান রাতারাতি সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, এই সমস্যার গভীরতা বিবেচনায় বাংলাদেশকে দীর্ঘমেয়াদী প্রস্তুতি নিয়ে এগোতে হবে।
উপদেষ্টা বলেন, “আমি যখন সাধারণ নাগরিক ছিলাম, তখনও বলেছিলাম যে এই সমস্যাটি যেভাবে চিন্তা করা হচ্ছে—দুই-চার মাস বা এক-দুই বছরে সমাধান হয়ে যাবে, বিষয়টি তেমন নয়। আমার ক্ষুদ্র জ্ঞান থেকে আমি মনে করি, এতে দীর্ঘ সময় লাগবে এবং সেই বাস্তবতা মেনেই আমাদের চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।”
আরাকান আর্মি ও কূটনৈতিক সীমাবদ্ধতা:
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে শক্তিশালী অবস্থানে থাকা বিদ্রোহী গোষ্ঠী ‘আরাকান আর্মি’র সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি বলেন, “আরাকান আর্মি ওই দেশের ভেতরে একটি বড় শক্তি বা এন্টিটি হলেও মিয়ানমার সরকার তাদের আইনগত স্বীকৃতি দেয়নি। একটি রাষ্ট্র হিসেবে আমরা কোনো ‘নন-স্টেট অ্যাক্টর’ বা বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করতে পারি না।”
তিনি আরও যোগ করেন, “মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক এখনও বিদ্যমান। ফলে আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক রীতি মেনে আমাদের পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে। সীমান্তে সংঘাত ও নানা সমস্যা দীর্ঘদিনের, যা একদিনে শেষ হওয়ার নয়।”
সীমান্তে উত্তেজনা ও নিরাপত্তা:
রাখাইন রাজ্যে জান্তা বাহিনী ও বিদ্রোহীদের লড়াইয়ের প্রভাবে বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায় যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হাতে সীমান্তের ওপারের নিয়ন্ত্রণ চলে যাওয়ায় দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া আরও জটিল হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বিস্তারিত আর কিছু না বললেও এটি স্পষ্ট করেছেন যে, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মিয়ানমারের নতুন নতুন শক্তিগুলোর উত্থান পর্যবেক্ষণ করে বাংলাদেশ তার দীর্ঘমেয়াদী কৌশল সাজাচ্ছে।
















