ত্রয়োদশ নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে জিরো টলারেন্স নীতি; দলমতের ঊর্ধ্বে থেকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে কোনো নিষিদ্ধ সংগঠন যেন নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য পুলিশ বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন। ডিএমপি কমিশনার স্পষ্ট করে বলেন, এবারের নির্বাচন ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে, তাই কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে যেন পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ না ওঠে। তিনি পুলিশ সদস্যদের দলমতের ঊর্ধ্বে থেকে একটি ত্রুটিবিহীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেওয়ার আহ্বান জানান।
রাজারবাগে অনুষ্ঠিত ডিসেম্বর ২০২৫-এর অপরাধ পর্যালোচনা সভায় ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আসন্ন নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা নিয়ে বিস্তারিত দিক-নির্দেশনা প্রদান করেন।
নিরাপত্তা ও নিষিদ্ধ সংগঠনের ওপর নজরদারি
ডিএমপি কমিশনার তাঁর বক্তব্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর জোর দেন:
- নিষিদ্ধ সংগঠনের তৎপরতা: কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে এমন কোনো রাজনৈতিক বা উগ্রবাদী সংগঠন যেন নির্বাচনের সুযোগ নিয়ে কোনো অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করতে না পারে, সেদিকে কঠোর নজর রাখতে হবে।
- রাজনৈতিক ফায়দা বন্ধ: কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেউ যেন রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করতে না পারে, সে বিষয়ে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- প্রার্থীদের সুরক্ষা: নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘিত হলে প্রার্থীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই সকল প্রার্থী যেন বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করেন, তা নিশ্চিত করতে হবে।
পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতার চ্যালেঞ্জ
ডিএমপি কমিশনার স্মরণ করিয়ে দেন যে, এই নির্বাচনটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। তিনি বলেন: ১. ইতিহাসের অংশ: “আসন্ন নির্বাচন ও গণভোট বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বিশেষ স্থান দখল করবে। আমাদের লক্ষ্য একটি ত্রুটিহীন নির্বাচন।” ২. অভিযোগমুক্ত পুলিশিং: নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকালে কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে যেন কোনো প্রকার প্রশাসনিক বা নৈতিক অভিযোগ না ওঠে, সে বিষয়ে তিনি সবাইকে সতর্ক করেন।
দুষ্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা
সভায় অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন) মো. সরওয়ার এবং অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এসএন মো. নজরুল ইসলামও বক্তব্য রাখেন। তাঁরা জানান, আসন্ন নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ইতিমধ্যে দুষ্কৃতিকারীদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিটি পুলিশ সদস্যকে নির্বাচনি আচরণবিধি মেনে চলতে এবং কোনো ধরনের উস্কানিতে পা না দিতে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
















