২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হচ্ছে কঠোর বিধিনিষেধ; অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ভিসা প্রসেসিং
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে ওয়াশিংটন। বাংলাদেশ, পাকিস্তান, রাশিয়া ও ইরানসহ বিশ্বের ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসন ভিসা (Immigrant Visa) প্রক্রিয়া অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সংশ্লিষ্ট কনস্যুলার অফিসগুলোকে পাঠানো এক চিঠিতে এই কঠোর সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। ফক্স নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে এই নির্দেশ কার্যকর হতে যাচ্ছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, বিদ্যমান অভিবাসন প্রক্রিয়া পুনর্মূল্যায়ন না করা পর্যন্ত এই দেশগুলোর নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য কোনো নতুন ভিসা পাবেন না।
নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় ধরনের কড়াকড়ির যে আভাস পাওয়া গিয়েছিল, এই সিদ্ধান্তকে তারই প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
স্থগিতাদেশের মূল কারণ ও প্রক্রিয়া
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, অভিবাসন প্রক্রিয়ার ফাঁকফোকর বন্ধ করতেই এই পুনর্মূল্যায়ন কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।
- যাচাই-বাছাই: কনস্যুলার অফিসারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন বিদ্যমান আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়।
- কার্যকারিতা: আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে এই নির্দেশ কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই ৭৫ দেশের নাগরিকরা অভিবাসন সুবিধার বাইরে থাকবেন।
- লক্ষ্য: অনিয়মিত উপায়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ রোধ এবং বিদেশি নাগরিকদের সুবিধার অপব্যবহার বন্ধ করা।
প্রভাবিত দেশের তালিকায় যারা রয়েছে
এই বিশাল তালিকায় এশিয়ার উদীয়মান অর্থনীতির দেশ থেকে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার দেশগুলো স্থান পেয়েছে:
১. দক্ষিণ এশিয়া: বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপাল ও ভুটান।
২. মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা: ইরান, মিশর, লিবিয়া, সিরিয়া, ইরাক, নাইজেরিয়া, সোমালিয়া ও ইয়েমেন।
৩. ইউরোপ ও অন্যান্য: রাশিয়া, বেলারুশ, ব্রাজিল, কলম্বিয়া, থাইল্যান্ড ও উজবেকিস্তান।
উদ্বেগে অভিবাসনপ্রত্যাশীরা
গত নভেম্বর থেকেই মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কনস্যুলার অফিসারদের ভিসা যাচাই-বাছাইয়ে বাড়তি কড়াকড়ির নির্দেশ দিয়েছিল। তবে বুধবারের এই চিঠিতে সরাসরি স্থগিতাদেশের কথা বলায় স্থবির হয়ে পড়বে হাজার হাজার মানুষের গ্রিন কার্ড বা অভিবাসন স্বপ্ন। বিশেষ করে যারা চূড়ান্ত সাক্ষাৎকারের (Interview) অপেক্ষায় ছিলেন, তাদের ভাগ্য এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে। এই পুনর্মূল্যায়ন প্রক্রিয়া কতদিন চলবে, সে বিষয়ে ওয়াশিংটন থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি।
















