পোস্টাল ব্যালটে কারসাজি ঠেকাতে নজরদারি ও চীন-মিয়ানমার প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের সময় দেশে কোনো ধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি যেন তৈরি না হয়, সেই লক্ষ্যে বিদেশি নাগরিকদের জন্য ‘অন-অ্যারাইভাল ভিসা’ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নির্বাচনের সময় হুট করে অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যক্তিদের প্রবেশ ঠেকাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি পোস্টাল ব্যালটের অপব্যবহার রোধ এবং মিয়ানমার সীমান্তে উত্তেজনা ও ড্রোনের কারখানার মতো স্পর্শকাতর ইস্যুগুলো নিয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন তিনি।
নির্বাচনের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে দেশের সার্বিক নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো নিয়ে গণমাধ্যমের সাথে কথা বলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা।
ভিসা নিয়ন্ত্রণ ও পোস্টাল ব্যালট ইস্যু
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অনেক ধরণের নাশকতামূলক বা বিভ্রান্তিকর চেষ্টার আশঙ্কা থাকে।
- ভিসা কড়াকড়ি: অন-অ্যারাইভাল ভিসা বন্ধ করার মাধ্যমে প্রবেশপথে কড়া নজরদারি নিশ্চিত করা হচ্ছে। যাতে সন্দেহভাজন কেউ হুট করে দেশে ঢুকে পরিবেশ অস্থিতিশীল করতে না পারে।
- ব্যালট কারসাজি: প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালট নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “পোস্টাল ব্যালটের অপব্যবহারের কিছু চেষ্টা হওয়া স্বাভাবিক, তবে আমরা সর্বোচ্চ সাবধানতা অবলম্বন করছি। মিশনে এ নিয়ে খুব বেশি কিছু করার সুযোগ না থাকলেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।”
প্রতিরক্ষা ও ড্রোনের কারখানা নিয়ে চীনের সাথে সম্পর্ক
বাংলাদেশে চীনের সহযোগিতায় ড্রোনের কারখানা নির্মাণের গুঞ্জন নিয়ে উপদেষ্টা বলেন:
“বাংলাদেশ সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে আমরা এমন কোনো পদক্ষেপ নেব না যাতে অন্য কোনো মিত্র দেশের সাথে আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবনতি ঘটে। ভারসাম্য রক্ষা করেই প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো হবে।”
মিয়ানমার সংকট ও গাজা প্রসঙ্গে অবস্থান
সীমান্ত পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক শান্তি মিশনে সেনা পাঠানোর প্রস্তাব নিয়ে তিনি সরকারের ৩টি শর্তের কথা স্মরণ করিয়ে দেন:
১. মিয়ানমার সীমান্ত: সীমান্তে হতাহতের ঘটনায় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। আরাকান আর্মিকে মিয়ানমার সরকার স্বীকৃতি না দিলেও বাংলাদেশের জন্য এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী সংকট। এই সংকট সমাধানে বাংলাদেশকে দীর্ঘ সময়ের প্রস্তুতি রাখার পরামর্শ দেন তিনি।
২. গাজা মিশন: ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক শান্তিবাহিনীতে বাংলাদেশি সেনা পাঠানোর বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করেন যে, বাংলাদেশ সেখানে যুদ্ধ করতে যাবে না। নির্দিষ্ট তিনটি শর্ত পূরণ না হলে এবং জাতিসংঘের সরাসরি ম্যান্ডেট ছাড়া গাজায় ফোর্স পাঠানোর কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
















