তারেক রহমানের আহ্বানে সরছেন স্বতন্ত্ররা; ১৭ আসনে শরিকদের ছাড়
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা ও জোটের ঐক্য সুসংহত করতে বড় ধরনের সফলতা দেখাচ্ছে বিএনপি। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সরাসরি হস্তক্ষেপে সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা বিদ্রোহী প্রার্থীরা নির্বাচনের মাঠ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন, যা বিএনপি ও এর সমমনা জোটের নেতা-কর্মীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, তারেক রহমান প্রতিদিন বিভিন্ন জেলার বিদ্রোহী প্রার্থীদের সঙ্গে রাজধানীর গুলশান কার্যালয়ে ভিডিও কনফারেন্স ও সরাসরি বৈঠক করছেন। তিনি বিদ্রোহী প্রার্থীদের আশ্বস্ত করেছেন যে, নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করলে এবং বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে। তাঁর এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে ইতোমধ্যে বহু হেভিওয়েট স্বতন্ত্র প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন। তবে যারা এখনো অনড় অবস্থানে আছেন, ২০ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময়ের মধ্যে তারা সরে না দাঁড়ালে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা ও বহিষ্কারের হুঁশিয়ারি দিয়েছে হাইকমান্ড।
শরিকদের ছেড়ে দেওয়া আসন ও সমঝোতার চিত্র:
বিএনপি তাদের সমমনা জোটের শীর্ষ নেতাদের জন্য মোট ১৭টি আসন ছেড়ে দিয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি আসন হলো:
| আসন | প্রার্থী ও দল |
| বগুড়া-২ | মাহমুদুর রহমান মান্না (নাগরিক ঐক্য) |
| ভোলা-১ | আন্দালিব রহমান পার্থ (বিজেপি) |
| পটুয়াখালী-৩ | নুরুল হক নুর (গণঅধিকার পরিষদ) |
| ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ | জোনায়েদ সাকি (গণসংহতি আন্দোলন) |
| সিলেট-৫ | মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক (জমিয়ত) |
| ঢাকা-১২ | সাইফুল হক (বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি) |
| কুমিল্লা-৭ | ড. রেদোয়ান আহমদ (এলডিপি) |
বিদ্রোহী প্রার্থীদের বর্তমান পরিস্থিতি:
- হাইকমান্ডের তৎপরতা: দেশের ২৯৮টি আসনের মধ্যে অন্তত ৯৩টি আসনে বিএনপির নেতারা স্বতন্ত্র হিসেবে দাঁড়িয়েছিলেন। তারেক রহমানের নির্দেশে ইতোমধ্যে অধিকাংশ বিদ্রোহী প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের অঙ্গীকার করেছেন। যেমন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ এ কে একরামুজ্জামান ভিডিওবার্তার মাধ্যমে প্রার্থিতা ত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।
- অনড় অবস্থান: ১৭টি সংরক্ষিত আসনের মধ্যে অন্তত ৪টিতে এখনো বিদ্রোহী প্রার্থীরা মাঠ ছাড়েননি। বিশেষ করে ঢাকা-১২ ও পটুয়াখালী-৩ আসনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ে এখনো কিছু জটিলতা রয়ে গেছে।
- কঠোর ব্যবস্থা: দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় ইতোমধ্যে ১০ জন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, ২০ জানুয়ারির মধ্যে পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে জয়ী হতে হলে বিদ্রোহীদের সামাল দেওয়া বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। তারেক রহমানের এই ব্যক্তিগত তদারকি দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল কমিয়ে নির্বাচনের মাঠে একটি ‘একক শক্তি’ হিসেবে বিএনপিকে শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাচ্ছে।
















