২০২৬-এর নির্বাচন ঘিরে সক্রিয় শীর্ষ সন্ত্রাসীরা; বিদেশ থেকে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে কিলিং মিশন
২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দেশের আন্ডারওয়ার্ল্ড। নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার ও আধিপত্য বজায় রাখতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনে পেশাদার ‘শুটার’ ও কিলার গ্রুপগুলোকে ব্যবহার করছে অপরাধ জগতের নিয়ন্ত্রকরা। এমনকি বিদেশ পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসীরাও পর্দার আড়াল থেকে এসব কিলিং মিশন নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক গুলি ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পেশাদার খুনিদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দফায় দফায় বৈঠক করলেও অপরাধ দমনে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিশেষ করে ‘ভাড়াটে পেশিশক্তি’ হিসেবে সন্ত্রাসীদের ব্যবহারের প্রবণতা রাজনৈতিক অঙ্গনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
সাম্প্রতিক চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড ও তদন্তের চিত্র:
- মোসাব্বির হত্যাকাণ্ড: তেজতুরী বাজারে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আজিজুর রহমান মোসাব্বির হত্যাকাণ্ডে জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি। তদন্তে দেখা গেছে, ভারতের শীর্ষ সন্ত্রাসী আশিক এবং মালয়েশিয়ার ‘দাদা বিনাশ’ ওরফে দীলিপের মাধ্যমে এই কিলিং মিশন সম্পন্ন হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে আপন তিন ভাই সরাসরি জড়িত ছিল।
- ওসমান হাদি হত্যা: ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। ডিবি পুলিশ জানিয়েছে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোর মদতে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। মূল আসামি ফয়সাল ও আলমগীর বর্তমানে ভারতে পলাতক।
- শীর্ষ সন্ত্রাসীদের ‘প্লাটফর্ম’: গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, বাড্ডা-গুলশান এলাকার দুবাই পলাতক জিসান, যুক্তরাষ্ট্র পলাতক কলিন্স এবং শ্রীলঙ্কার শাহজাদাকে বিশেষ কৌশলে এক প্ল্যাটফর্মে এনেছেন এক প্রভাবশালী প্রার্থী। অন্যদিকে, সুইডেন পলাতক শাহাদাত মিরপুর এলাকায় তার ‘ফোর স্টার গ্রুপ’ দিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন।
- রাজনীতি ও অপরাধের মেলবন্ধন: মোহাম্মদপুর এলাকায় আধিপত্য বজায় রাখতে কম্বোডিয়া পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমন (ক্যাপ্টেন) সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। এমনকি তিনি তার অনুসারীদের বিভিন্ন রাজনৈতিক পদে বসিয়ে নির্বাচনের মাঠ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানায়, ১৩ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২’-এর আওতায় ১৬ হাজারের বেশি গ্রেপ্তার হলেও পেশাদার খুনি ও মূল হোতাদের ধরা এখনো বড় সাফল্য আসেনি। অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামান্য শিথিলতাও অপরাধীদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে।
















