নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে তরুণদের উত্থান, শিক্ষার লক্ষ্য নিয়েও প্রশ্ন তুললেন প্রধান উপদেষ্টা
তরুণরা নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেছে, আসন্ন নির্বাচনে অংশ নেবে এবং নির্বাচিত হলে তাদের মধ্য থেকেই ভবিষ্যতে শিক্ষামন্ত্রী আসতে পারেন—এমন প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
আগামী জাতীয় নির্বাচনে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, তরুণরা ইতিমধ্যে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেছে এবং আসন্ন নির্বাচনে অংশ নেবে। তাদের মধ্য থেকে কেউ কেউ নির্বাচিত হবেন, এমনকি ভবিষ্যতে তাদের মধ্য থেকেই শিক্ষামন্ত্রীও আসতে পারেন।
রাজধানীর একটি হোটেলে তিন দিনব্যাপী ‘দক্ষিণ এশিয়ার উচ্চশিক্ষার বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পথনির্দেশনা’ শীর্ষক আঞ্চলিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
ড. ইউনূস বলেন, “যারা সেদিন ক্লাসরুমে ছিল, আজ তারা রাজপথ থেকে নিজেদের রাজনৈতিক দল গঠন করেছে। তারা যদি নির্বাচিত হয়, তাদের মধ্য থেকে কেউ হয়তো শিক্ষামন্ত্রীও হবেন। এখন শিক্ষিত সমাজ আমাদের বলুক—শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য কী।”
তিনি যুবসমাজের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার আহ্বান জানান। বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ঢাকায় ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো পর্যালোচনার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা ও সামগ্রিক শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য নতুন করে বোঝার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে ড. ইউনূস বলেন, তরুণদের নিজস্ব চিন্তা ও মনন আছে। তারা ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে জীবন দিয়ে প্রতিবাদ করেছে। কেন তারা অস্ত্রের মুখে দাঁড়িয়ে জীবন উৎসর্গ করেছিল, সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা জরুরি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
শহীদ স্কুলছাত্র শাহরিয়ার খান আনাসের মায়ের কাছে লেখা চিঠির উদাহরণ টেনে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, তরুণদের এই আত্মত্যাগ কোনো হঠাৎ বিস্ফোরণ নয়; দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশেও এমন অভিজ্ঞতা রয়েছে, তবে ঢাকায় তা ঘটেছে আরও ব্যাপকভাবে।
সম্মেলনের আয়োজন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন, বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংক-এর অর্থায়নে বাস্তবায়িত হায়ার এডুকেশন অ্যাকসেলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) প্রকল্পের আওতায়। এতে যুক্তরাজ্য, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।
ড. ইউনূস বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থাকে ‘চাকরিকেন্দ্রিক’ বলে সমালোচনা করে বলেন, শিক্ষা কেবল চাকরির জন্য মানুষ তৈরি করার বিষয় নয়। মানুষের সৃজনশীলতাই সভ্যতার মূল শক্তি, আর সেই সৃজনশীলতাকে দমিয়ে রাখা শিক্ষা ব্যবস্থা তরুণদের প্রকৃত বিকাশে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরার। সভাপতিত্ব করেন ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এসএমএ ফায়েজ। আরও বক্তব্য রাখেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীন এবং বিশ্বব্যাংকের ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যঁ পেসমে।















