কাজলের কোলে ধরা সেই মেয়েটিই আজ ফাতিমা সানা শেখ
১৯৯৭ সালের ছবি ইশ্ক–এর একটি হাস্যরসাত্মক দৃশ্য আজও ভাইরাল হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। অজয় দেবগন সরু পাইপে ভারসাম্য হারিয়ে ঝুলে পড়ছেন, আমির খান ‘মরা! মরা!’ বলতে বলতে ছুটছেন—আর সেই উত্তেজনার মাঝেই কাজলের কোলে দেখা যায় গোলাপি ফ্রক পরা এক ছোট্ট মেয়েকে। সেই মুহূর্তে কেউ ভাবেনি, এই শিশুটি একদিন নিজেই বলিউডের পরিচিত মুখ হয়ে উঠবেন।
তিনি ফাতিমা সানা শেখ।
হায়দরাবাদে জন্ম, বড় হওয়া মুম্বাইয়ে। শিশুশিল্পী হিসেবে ইশ্ক, চাচি ৪২০, বড়ে দিলওয়ালা, ওয়ান টু কা ফোর–এর মতো ছবিতে কাজ করলেও কৈশোরে এসে জীবন তাঁর জন্য সহজ ছিল না। পড়াশোনায় ছন্দপতন, আত্মবিশ্বাসের সংকট, আর বলিউডের নির্মম ‘কাস্টিং কাউচ’ অভিজ্ঞতা—সব মিলিয়ে তিনি প্রায় হারিয়েই যেতে বসেছিলেন।
ফাতিমা নিজেই পরে এক পডকাস্টে বলেছিলেন, দক্ষিণ ভারতের এক কাস্টিং এজেন্ট কাজের বিনিময়ে তাঁর কাছে ইঙ্গিতপূর্ণ প্রস্তাব রেখেছিল। এমন পরিস্থিতি তাঁকে ভিতর থেকে ভেঙে দিলেও অভিনয় ছাড়েননি তিনি।
২০১৬ সালে আসে জীবনের মোড় ঘোরানো মুহূর্ত—দঙ্গল। কুস্তিগির গীতা ফোগাটের চরিত্রে তাঁর অভিনয় শুধু প্রশংসা নয়, তাঁকে প্রতিষ্ঠিত করে দেয় বলিউডের নতুন প্রজন্মের শক্তিশালী অভিনেত্রী হিসেবে। ছবিটি তাঁকে দিয়েছে কাজ বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা, আত্মসম্মান আর নিজের ওপর বিশ্বাস।
তবে সাফল্যের পথও সরল ছিল না। ঠগস অব হিন্দোস্তান ব্যর্থ হলে আবার অনিশ্চয়তা ঘিরে ধরে তাঁকে। তবু লুডো, আজিব দাস্তানস, মডার্ন লাভ মুম্বাই আর ধক ধক–এর মতো কাজ দিয়ে নিজেকে নতুনভাবে তুলে ধরেন তিনি। সাম্প্রতিক সময়ে স্যাম বাহাদুর–এ ইন্দিরা গান্ধীর চরিত্রে তাঁর অভিনয় তাঁকে এনে দেয় আরও পরিণত স্বীকৃতি।
আমির খানের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে একসময় নানা গুঞ্জন থাকলেও ফাতিমা সবসময়ই বলছেন—তিনি চান তাঁর কাজই কথা বলুক।
ব্যক্তিজীবনেও সংগ্রাম কম নয়। এখনও ভাড়া বাড়িতে থাকা, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, এমনকি মৃগীরোগের সঙ্গে লড়াই—সবকিছু নিয়েই তিনি আজ খোলামেলা। তাঁর মতে, এই বাস্তবতাই তাঁকে আরও দৃঢ় করেছে।
কাজলের কোলে ধরা সেই এক ঝলকের শিশু থেকে আজকের এই অবস্থান—ফাতিমা সানা শেখের গল্প আসলে টিকে থাকার, নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলার, আর অন্ধকারের মধ্যেও আলো খুঁজে নেওয়ার গল্প।
একটা দৃশ্য বদলে দিয়েছিল তাঁর জীবন। বাকিটা তিনি নিজেই লিখে চলেছেন।
















