নির্বাচনে আটঘাট বেঁধে মাঠে নামছে ১১ দল
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠনের লক্ষ্য নিয়ে আটঘাট বেঁধে মাঠে নামছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। নির্বাচনী কৌশলের অংশ হিসেবে আগামীকাল মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) আসন সমঝোতার চূড়ান্ত ঘোষণা আসতে পারে বলে জোটের নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) জোটভুক্ত দলগুলোর লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক ও শীর্ষ নেতাদের তৎপরতা থেকে জানা যায়, ৩০০ আসনেই জোটের একক প্রার্থী নিশ্চিত করতে ‘ওয়ান বক্স পলিসি’ গ্রহণ করা হয়েছে। এই নীতি অনুযায়ী প্রতিটি আসনে জোট থেকে কেবল একজন প্রার্থী মনোনীত হবেন এবং বাকি দলগুলো তাকে সমর্থন দেবে। জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান এবং এনসিপি’র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের মধ্যে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক বৈঠকে নির্বাচনী কৌশল ও ইশতেহার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। জামায়াত সূত্রে জানা গেছে, তাদের এবারের ইশতেহার হবে আধুনিক ও জনবান্ধব, যেখানে ‘জেন-জি’ তথা তরুণদের কর্মসংস্থানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে উচ্চশিক্ষা শেষে বেকারত্ব দূর করতে বাস্তবমুখী শিক্ষাব্যবস্থা ও মায়েদের জন্য কর্মঘণ্টা ৫ ঘণ্টা নির্ধারণের মতো যুগান্তকারী প্রস্তাব থাকছে এই ইশতেহারে।
জোটের শরিকদের মধ্যে আসন বণ্টনের ক্ষেত্রে জামায়াত প্রায় ২১০ থেকে ২১৫টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন ৪০টি এবং এনসিপি ৩০টি আসনে সমঝোতার দাবি জানিয়েছে। তবে মাওলানা আব্দুল হালিম জানিয়েছেন, মঙ্গলবার চূড়ান্ত ঘোষণার পরেই প্রকৃত আসন সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া যাবে। নির্বাচন কমিশনের সময়সূচি অনুযায়ী ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের পর একযোগে সারা দেশে প্রচারণায় নামবে ১১ দল। তারা কেবল সংসদ নির্বাচনের ভোট নয়, বরং প্রস্তাবিত ‘জুলাই সনদ’ ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারের প্রশ্নে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করতেও ব্যাপক প্রচারণা চালাবে। ইতোমধ্যে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে সভা-সমাবেশের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে নতুন বার্তা দেওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে জোটের নীতিনির্ধারকরা।
















