জাতিসংঘের পূর্বাভাসে ২০২৬ সালে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫.১%, তবে সুদ ও আমদানি ব্যয়ে ঝুঁকি
জাতিসংঘের ‘বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও সম্ভাবনা ২০২৬’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ায় মূল্যস্ফীতি সামগ্রিকভাবে কমলেও বাংলাদেশে তা এখনও তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে বেশি; খাদ্য ও আমদানিনির্ভর জ্বালানির দামই প্রধান বাধা।
জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ক বিভাগ প্রকাশিত ‘বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং সম্ভাবনা ২০২৬’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চাপ কাটিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। ২০২৪ ও ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫.১ শতাংশে উন্নীত হতে পারে। তবে উচ্চ সুদের হার, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ ও সরকারি ঋণের বাড়তি বোঝা মধ্যমেয়াদে ঝুঁকি তৈরি করছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ায় ২০২৫ সালে মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কিন্তু বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি এখনও তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে বেশি। আইএমএফের পরামর্শে বাংলাদেশ ব্যাংক কঠোর মুদ্রানীতি বজায় রাখায় সুদহার উঁচু আছে—যেখানে ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা ইতোমধ্যে সুদ কমাতে শুরু করেছে। জাতিসংঘ বলছে, খাদ্যপণ্য ও আমদানিনির্ভর জ্বালানির দাম মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসার পথে প্রধান বাধা।
কৃষিতে স্থিতিশীল উৎপাদন, অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং আইএমএফ-সমর্থিত সংস্কারের ফলে অর্থনীতি ধীরে ধীরে গতি পাচ্ছে। তবু দক্ষিণ এশিয়ার গড় প্রবৃদ্ধি (২০২৬ সালে ৫.৬%)-এর তুলনায় বাংলাদেশ এখনও পিছিয়ে। একই সময়ে ভারত প্রায় ৬.৬%, ভুটান ৬%+, আর শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ ~৪% প্রবৃদ্ধিতে থাকতে পারে।
ঋণ পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘ বলছে, বাংলাদেশ এখন মাঝারি ঝুঁকিতে—উচ্চ ঝুঁকির তালিকায় নেই। তবে সুদ ব্যয় দ্রুত বাড়ছে; রাজস্ব আদায় দুর্বল থাকলে ও বৈশ্বিক সুদ দীর্ঘদিন উঁচু থাকলে বাজেট ব্যবস্থাপনা চাপে পড়তে পারে।
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, উচ্চ সুদ ও জলবায়ু ঝুঁকির কারণে বিশ্ব অর্থনীতি নিম্ন প্রবৃদ্ধিতে রয়েছে। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোর রপ্তানি ও বিনিয়োগ পরিবেশ চ্যালেঞ্জিং থাকবে বলে প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে।














