ইস্তাম্বুল, ১০ জানুয়ারি: গত এক দশকে তুরস্কের টেলিভিশন নাটক বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে সাংস্কৃতিক, কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে মন্তব্য করেছেন আঙ্কারায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত।
আনাদোলুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রদূত আমানুল হক বলেন, তুর্কি ধারাবাহিকগুলো বাংলাদেশের দর্শকদের সঙ্গে গভীর আবেগী ও সাংস্কৃতিক বন্ধন তৈরি করেছে। তাঁর মতে, এই নাটকগুলো দুই দেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সম্মান বাড়িয়েছে।
তিনি জানান, পরিবার, ধর্মীয় মূল্যবোধ, সম্মান, ন্যায়বিচার ও ত্যাগের মতো বিষয়গুলো তুর্কি নাটকে যেভাবে তুলে ধরা হয়, তা বাংলাদেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে মিল রয়েছে। ফলে এসব ধারাবাহিকের সঙ্গে সহজেই নিজেদের সম্পৃক্ত করতে পারছেন বাংলাদেশের দর্শকরা।
বাংলাদেশে জনপ্রিয় তুর্কি ধারাবাহিকগুলোর মধ্যে রয়েছে কারা সেভদা, মুহতেশেম ইউজইল, যা স্থানীয়ভাবে সুলতান সুলেইমান নামে পরিচিত, এবং কুরুলুশ ওসমান। বিশেষ করে তরুণ দর্শকদের মধ্যে এসব নাটকের জনপ্রিয়তা বেশি।
রাষ্ট্রদূত জানান, এসব ধারাবাহিক বাংলায় ডাবিং করে সম্প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে দেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলো, বিশেষ করে দীপ্ত টিভি।
তুর্কি নাটকের প্রভাব শুধু টেলিভিশনের পর্দাতেই সীমাবদ্ধ নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তুর্কি খাবার, পোশাক ও ভাষার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে এবং তুরস্ক ভ্রমণের আকাঙ্ক্ষাও বৃদ্ধি পেয়েছে। ঢাকায় তুর্কি রেস্তোরাঁর সংখ্যা বাড়ছে এবং মধ্যবিত্ত অনেক পরিবার তুরস্কের পণ্য ব্যবহার করছে বলে জানান রাষ্ট্রদূত।
তার ভাষায়, তুর্কি নাটক বাংলাদেশে তুরস্কের সংস্কৃতি ছড়িয়ে দিতে এবং দেশটিকে ঘুরে দেখার আগ্রহ বাড়াতে স্পষ্ট ভূমিকা রেখেছে।
এই সাংস্কৃতিক ঘনিষ্ঠতা দুই দেশের রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককেও আরও এগিয়ে নিচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। রাষ্ট্রদূত জানান, তুর্কি সংস্কৃতির প্রতি বাংলাদেশের মানুষের আগ্রহের কারণে দেশে ইউনুস এমরে ইনস্টিটিউটের একটি শাখা খোলার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
আমানুল হকের মতে, তুর্কি নাটকগুলো তুরস্ককে সমৃদ্ধ ইসলামি ঐতিহ্য, কার্যকর শাসনব্যবস্থা ও আধুনিক সক্ষমতার দেশ হিসেবে তুলে ধরছে, যা বাংলাদেশে তুরস্কের সফট পাওয়ার বাড়ানোর পাশাপাশি দুই দেশের মানুষের মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর করছে।
















