১১ প্রতিষ্ঠানে রাখা ৯২০ কোটি টাকার এফডিআর উদ্ধারে আইনি নোটিশের সিদ্ধান্ত
ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংক ও নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রাখা প্রায় ৯২০ কোটি টাকার স্থায়ী আমানত (এফডিআর) ফেরাতে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)।
৭ জানুয়ারি ২০২৬, বুধবার দুপুর | ঢাকা
ঝুঁকিপূর্ণ ১১টি প্রতিষ্ঠানে রাখা এফডিআরের অর্থ উদ্ধার করতে আইনি নোটিশ পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে পদ্মা ব্যাংক এবং ১০টি ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই)।
আইসিবি সূত্রে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে রাখা এফডিআরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থ রয়েছে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডে—১৯১ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এছাড়া ফার্স্ট ফাইন্যান্সে ১৬১ কোটি ৯ লাখ, পদ্মা ব্যাংকে ১৫৪ কোটি ২ লাখ, ফনিক্স ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টে ১৩৪ কোটি ৭৫ লাখ, ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টে ৭৮ কোটি ২৩ লাখ, আভিভা ফাইন্যান্সে ৫০ কোটি ১২ লাখ এবং এফএএস ফাইন্যান্সে ৫৬ কোটি ৯৪ লাখ টাকা জমা রয়েছে।
এ ছাড়া প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সে ৪৭ কোটি ২৯ লাখ, পিপল লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসে ২৫ কোটি, বাংলাদেশ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টে ১৭ কোটি ৯৮ লাখ এবং প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টে ৭ কোটি ২৪ লাখ টাকার এফডিআর রয়েছে আইসিবির।
আইসিবির সাম্প্রতিক বোর্ড সভায় এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এ বিষয়ে আইসিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে এফডিআর করা ছিল একটি ভুল সিদ্ধান্ত। “এখন শেষ চেষ্টা হিসেবে আইনি পথে যাচ্ছি, তবে আমানত ফেরত পাওয়া নিয়ে খুব একটা আশাবাদী নই,” বলেন তিনি।
তিনি আরও জানান, ঝুঁকিপূর্ণ এফডিআরের বিপরীতে বড় অঙ্কের সঞ্চিতি গঠন করতে হওয়ায় আইসিবির শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) ঋণাত্মক হয়েছে। বাস্তব আদায়ের সম্ভাবনা কম থাকায় কাগজে লাভ দেখিয়ে কোনো সুফল আসবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে আমানত উদ্ধারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপ চেয়েছিল আইসিবি। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি এফডিআর পর্যবেক্ষণ ও পুনরুদ্ধারে বিশেষ দল গঠন করাও হয়েছিল।
পদ্মা ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মো. তালহা জানান, আইসিবির কাছ থেকে নেওয়া ১৫৪ কোটি ২ লাখ টাকার এফডিআর বর্তমানে পরিশোধ করা সম্ভব নয়। তীব্র তারল্য সংকটের কারণে নিয়মিত চিঠি পেলেও অর্থ ফেরত দেওয়া যাচ্ছে না বলে তিনি জানান।
পুঁজিবাজারে সহায়তার দায়িত্বপ্রাপ্ত আইসিবি পাঁচ থেকে ছয় বছর আগে উচ্চ সুদের আশায় এসব ব্যাংক ও এনবিএফআইয়ে বড় অঙ্কের এফডিআর বিনিয়োগ করেছিল। তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো পরবর্তীতে তারল্য সংকটে পড়ায় আমানতের অর্থ আটকে যায়, যার ফলে আইসিবি নিজেই বড় ধরনের আর্থিক চাপে পড়ে।
















