খার্তুম, সুদান – সুদানে যৌন সহিংসতার শিকাররা প্রায়ই নীরব থাকতে বাধ্য হন, তাদের কান্না কেউ শোনে না। তবে মারিয়াম নামের এক নারী জানালেন, যুদ্ধের আতঙ্ক তাকে তাড়িয়ে বেড়িয়েছিলও, নিরাপদে পালানোর চেষ্টা করলেও তিনি আক্রান্ত হয়েছেন।
গত বছর গেজিরা রাজ্য থেকে খার্তুমে যাওয়ার সময় মারিয়ামের গাড়ি একটি সশস্ত্র দলের দ্বারা থামানো হয়। তিনি একমাত্র যাত্রী ছিলেন যাকে আলাদা করে আনা হয়। মারিয়াম আল জাজিরাকে বলেন, তাদের গাড়ি থামিয়ে একটি ফাঁকা ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তাকে মেঝেতে শুতে বলা হয় এবং তার ওপর ধর্ষণ চালানো হয়। তিনি ভেঙে পড়েছিলেন এবং গাড়িতে ফিরে এসে পরিবারকে সব জানালেন। তার কাকী আল জাজিরাকে জানান, অভিযুক্তরা ছিলেন র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সের সদস্য।
এ ধরনের ঘটনায় মারিয়ামের অভিজ্ঞতা একক নয়। আল-ফাশের অঞ্চলে আরও ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে। একজন মেডিকেল ছাত্রা উম কুলথুম জানালেন, তিনি প্রথমে গণধর্ষণ ও হত্যার দৃশ্য দেখেছেন, পরে নিজেও শিকার হয়েছেন। RSF বাহিনী প্রবেশ করে এলাকা অবরোধ করেছিল, তার চাচাকে হত্যা করা হয়েছিল তাদের চোখের সামনে। চারজন মেয়েকে এবং প্রতিবেশীর একটি মেয়েকে গণধর্ষণ করা হয়।
নভেম্বর ২০২৫ সালে Strategic Initiative for Women in the Horn of Africa একটি প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এপ্রিল ২০২৩ থেকে ১৪টি রাজ্যে প্রায় ১৩০০টি যৌন ও লিঙ্গ-ভিত্তিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। SIHA এর আঞ্চলিক পরিচালক হালা আল-কারিব জানিয়েছেন, এই সহিংসতা স্বতঃস্ফূর্ত নয়, বরং নারীদেরকে “সম্পত্তি” হিসেবে দেখার কৌশল।
RSF সৈন্যরা প্রায়ই বাড়িতে প্রবেশ করে জিজ্ঞেস করেন, এই ঘরে কি কোনো মেয়ে আছে? তরুণী কি আছে? এবং তারা অনেককে জোরপূর্বক অপহরণ করে “যৌন দাসত্বের” জন্য, পাশাপাশি শ্রমের কাজে ব্যবহার করে যেমন কাপড় ধোয়া ও রান্না। এ থেকে আরও ভয়াবহ দিক হলো, নারী অপহরণ করে সীমান্ত পেরিয়ে প্রতিবেশী আফ্রিকান দেশে বিক্রি করা হচ্ছে।
আর্নল্ড সুঙ্গা, আন্তর্জাতিক ন্যায়িক কমিশনের প্রাক্তন আফ্রিকা পরিচালক, জানিয়েছেন, RSF প্রধানত মাসালিত জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। এই সহিংসতা পরিকল্পিতভাবে যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, লোকদের জমি থেকে জোরপূর্বক সরানোর জন্য।
হাসপাতালগুলোও এই সহিংসতার বোঝা সামলাতে পারছে না। ওমদুরমান মেটারনিটি হাসপাতালে পরিচালক ইমাদ আল-দিন আব্দুল্লাহ আল-সিদ্দিক জানিয়েছেন, ১৪টি দুই বছরের কম বয়সী মেয়েও ধর্ষণের শিকার হয়েছে। স্থানীয় হাসপাতালে ১১ থেকে ২৩ বছর বয়সী একাধিক অবিবাহিত কিশোরী ধরা পড়েছে। ইউনিসেফ জানিয়েছে, ২০২৪ সালের শুরু থেকে ২০০টিরও বেশি শিশুকে যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।
SIHA প্রতিবেদনে RSF এর সহিংসতা তিন ধাপে সংঘটিত হওয়ার কথা বলা হয়েছে: প্রথমে বাড়িতে প্রবেশ ও লুটপাটসহ ধর্ষণ, পরে গণপরিসরে হামলা, এবং শেষ পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদী বন্দিত্ব। এই সহিংসতার পটভূমিতে খাদ্য সংকটও জেঁকে বসেছে। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি জানিয়েছে, তহবিল ঘাটতির কারণে জানুয়ারি থেকে সুদানের খাদ্য সহায়তা কমানো হবে।
আন্তর্জাতিক চাপও বৃদ্ধি পাচ্ছে। যুক্তরাজ্য সম্প্রতি RSF এর চারজন সিনিয়র কমান্ডারকে গণহত্যা ও যৌন সহিংসতার অভিযোগে নিষিদ্ধ করেছে। তবে মারিয়াম ও উম কুলথুমের মতো বেঁচে থাকা মানুষদের জন্য কূটনৈতিক পদক্ষেপ তেমন সান্ত্বনা দেয়নি। আল-কারিব বলেন, বেসামরিক নারীদের পুনর্বাসনে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ খুবই সীমিত।
















