দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন ও তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরু করতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে মধ্যস্থতার ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার সাংহাইয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় লি জানান, পিয়ংইয়ংয়ের পারমাণবিক কর্মসূচি বর্তমান অবস্থায় স্থগিত রাখার বিনিময়ে কিছু ধরনের ক্ষতিপূরণ বা প্রত্যাবর্তনের প্রস্তাব তিনি দিয়েছেন। চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে তিনি এই মন্তব্য করেন।
লি বলেন, বর্তমান পর্যায়ে যদি নতুন করে পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদন বন্ধ থাকে, বিদেশে পারমাণবিক উপকরণ স্থানান্তর না হয় এবং আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নয়ন থেমে যায়, সেটিও বড় অগ্রগতি হবে। তিনি জানান, এই ধাপ সফল হলে মধ্যমেয়াদে ধীরে ধীরে হ্রাসের পথে যাওয়া সম্ভব হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে কোরীয় উপদ্বীপকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত করার লক্ষ্য থেকে সরে আসা যাবে না।
ছয় বছরের মধ্যে এই সফর ছিল কোনো দক্ষিণ কোরীয় প্রেসিডেন্টের প্রথম রাষ্ট্রীয় চীন সফর। ২০১৭ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, সেই পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠাই ছিল এই সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য।
লি বলেন, বেইজিংয়ের সঙ্গে আস্থার অনেকটা পুনর্গঠন হয়েছে এবং তিনি শি জিনপিংকে জানিয়েছেন যে কোরীয় উপদ্বীপ সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে, বিশেষ করে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ইস্যুতে, চীন যেন মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে। তার ভাষায়, বর্তমানে সিউল ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে যোগাযোগের সব পথ প্রায় বন্ধ, তাই শান্তির স্বার্থে চীনের সহযোগিতা প্রয়োজন।
লি আরও জানান, শি জিনপিং তাকে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি স্বীকার করেন, দীর্ঘ সময় ধরে দক্ষিণ কোরিয়ার কিছু সামরিক তৎপরতা উত্তর কোরিয়া হুমকি হিসেবে দেখেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইয়ল বর্তমানে অভিযুক্ত, কারণ তার বিরুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক উত্তেজনা উসকে দেওয়ার মাধ্যমে ক্ষমতা সংহত করার চেষ্টা করার অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে সোমবার উত্তর কোরিয়া নিশ্চিত করেছে, তারা হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন চালিয়েছে। দেশটির নেতা কিম জং উন বলেছেন, সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে পারমাণবিক প্রতিরোধ শক্তি আরও জোরদার করা জরুরি। পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান ও দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার ঘটনার দিকেই ইঙ্গিত করে।
















