যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাতের ৫০তম দিনে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার নিয়েছে। একদিকে আলোচনার আশাবাদী বার্তা, অন্যদিকে বাস্তব পরিস্থিতিতে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো হরমুজ প্রণালী আবারও বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্র তাদের বন্দর অবরোধ তুলে না নেওয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে বলে জানিয়েছে তেহরান। এর আগে একই দিনে শর্তসাপেক্ষে প্রণালীটি খুলে দেওয়া হয়েছিল।
ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তারা তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অন্য কোথাও হস্তান্তর করবে না। যদিও যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছিল, এ বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে।
এদিকে ইরান নতুন একটি পরিকল্পনা করছে, যেখানে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা বাবদ অর্থ দিতে হতে পারে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞার কথাও বলা হয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, আলোচনায় আর বড় কোনো বাধা নেই এবং পরিস্থিতি ইতিবাচক। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন, পূর্ণাঙ্গ চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ তুলে নেওয়া হবে না।
মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলো পরিস্থিতিকে নাজুক হিসেবে দেখছে। সৌদি আরব বলেছে, প্রণালী আংশিকভাবে খুললেও স্থিতিশীলতা এখনো নিশ্চিত নয়।
ইউরোপীয় দেশগুলো হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে যৌথ উদ্যোগ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এদিকে ইয়েমেনে হুথি সমর্থকেরা ইরান ও লেবাননের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিক্ষোভ করেছে এবং প্রয়োজনে যুদ্ধে জড়ানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও বিচ্ছিন্ন হামলার খবর পাওয়া গেছে। সংঘাত শুরুর পর থেকে সেখানে প্রায় দুই হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
ইসরায়েল জানিয়েছে, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে তাদের অভিযান এখনো শেষ হয়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে লেবাননে নতুন হামলা না চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিশ্ব অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়েছে। হরমুজ প্রণালী খোলার ঘোষণার পর তেলের দাম কমে গেলেও পরিস্থিতি অস্থির রয়ে গেছে।
সব মিলিয়ে, একদিকে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়লেও বাস্তবে যুদ্ধ পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত এবং উত্তেজনাপূর্ণ রয়ে গেছে।
















