জুতার ভেতর লুকিয়ে পাচারের সময় আতুরার ডিপোতে হানা; ছিনতাইকারীদের হাতে ছিল পিস্তল ও ছুরি
চট্টগ্রাম নগরীর ব্যস্ততম আতুরার ডিপো এলাকায় পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পরিচয়ে ৩৫০ ভরি ওজনের ৩৫টি স্বর্ণেরবার ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (০৫ জানুয়ারি) রাতে পাঁচলাইশ থানায় এই সংক্রান্ত একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, রোববার ভোরে অটোরিকশা থামিয়ে অস্ত্রের মুখে জুতার ভেতরে লুকিয়ে রাখা এই বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ ছিনিয়ে নেয় চার দুর্বৃত্ত। তবে স্বর্ণ বহনের গোপনীয় পদ্ধতি এবং এর মালিকের অতীত রেকর্ড নিয়ে জনমনে গভীর সন্দেহ ও রহস্য দানা বেঁধেছে।
পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল করিম নিশ্চিত করেছেন যে, সবুজ দেবনাথ নামে এক ব্যক্তি বাদী হয়ে অজ্ঞাত চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। পুলিশ ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও তদন্ত শুরু করেছে।
ছিনতাইয়ের রোমহর্ষক বিবরণ
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, রোববার ভোররাত সাড়ে ৫টার দিকে কোতোয়ালী থানার হাজারী গলি থেকে তিন স্বর্ণকার—সবুজ দেবনাথ, বিভাস রায় ও পিন্টু ধর—একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী যাচ্ছিলেন।
- কৌশল: তারা প্রত্যেকে নিজেদের স্নিকার্স জুতার ভেতরে স্বর্ণেরবারগুলো লুকিয়ে রেখেছিলেন। সবুজের কাছে ১১টি, পিন্টুর কাছে ১১টি এবং বিভাসের কাছে ছিল ১৩টি বার।
- হামলা: অটোরিকশাটি আতুরার ডিপোর মধুবন এলাকায় পৌঁছালে দুটি মোটরসাইকেলে আসা চার যুবক সেটির গতিরোধ করে। নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে পিস্তল ও ছুরি উঁচিয়ে তারা স্বর্ণেরবার এবং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত চম্পট দেয়।
নেপথ্যে কি স্বর্ণ চোরাচালান সিন্ডিকেট?
ছিনতাই হওয়া এই স্বর্ণের মালিক হাজারী গলির মিয়া শপিং মার্কেটের ‘জয়রাম ট্রেডার্স’-এর স্বত্বাধিকারী কৃষ্ণ কর্মকার। উল্লেখ্য যে, এই কৃষ্ণ কর্মকারের নাম আগেও স্বর্ণ চোরাচালান সংক্রান্ত মামলায় আলোচিত হয়েছে।
- অতীত রেকর্ড: ২০২৩ সালের জুনে কর্ণফুলীতে ৯.৫ কেজি স্বর্ণ জব্দের ঘটনায় আটক আসামিরা আদালতে জবানবন্দিতে কৃষ্ণ কর্মকারের নাম উল্লেখ করেছিলেন। যদিও পরবর্তীতে পিবিআই-এর চূড়ান্ত প্রতিবেদনে তিনি আইনি সুবিধা পান।
- রহস্যময় পরিবহন: কেন এতো বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ বৈধ কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়া জুতার ভেতরে লুকিয়ে ভোরে পরিবহন করা হচ্ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন খোদ তদন্ত কর্মকর্তারা।
পুলিশের বক্তব্য ও পদক্ষেপ
পাঁচলাইশ থানার ওসি জানান, “স্বর্ণগুলো হাজারী গলি থেকে ঢাকায় নেওয়া হচ্ছিল বলে বাদী দাবি করেছেন। তবে এর বৈধ কাগজপত্র এবং পরিবহনের ধরণ আমরা খতিয়ে দেখছি। এটি কোনো পরিকল্পিত ছিনতাই না কি অভ্যন্তরীণ কোনো বিরোধের জের, তা নিশ্চিত হতে ডিবির একাধিক টিম কাজ করছে।”
নগরীর প্রধান স্বর্ণ বিপণন কেন্দ্র হাজারী গলির ব্যবসায়ীদের একাংশের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে স্বর্ণ চোরাচালান সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এই ছিনতাইয়ের ঘটনাটি সেই অভিযোগের পালে নতুন করে হাওয়া দিচ্ছে।
















