২১ জানুয়ারির আগে জনসংযোগ নিষিদ্ধ; প্রার্থী ও সমর্থকদের আচরণবিধি মানার কড়া নির্দেশ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে মাঠ পর্যায়ে কোনো ধরণের আগাম প্রচারণা চালানো যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশন স্পষ্ট করেছে যে, প্রতীক বরাদ্দের আগে কোনো রাজনৈতিক দল, প্রার্থী কিংবা তাদের অনুসারীরা নির্বাচনী সভা-সমাবেশ বা ভোট প্রার্থনা করতে পারবেন না। সোমবার (০৫ জানুয়ারি) ইসির জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক স্বাক্ষরিত এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। নির্বাচন কমিশনের এই কঠোর বার্তা মূলত মাঠ পর্যায়ে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সকল প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ (Level Playing Field) নিশ্চিত করার একটি পদক্ষেপ।
নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২১ জানুয়ারি। এর আগে কোনো ধরণের প্রচারণামূলক কর্মকাণ্ড নির্বাচনী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে।
ইসির বিজ্ঞপ্তিতে যা বলা হয়েছে
নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে জানানো হয়েছে:
- প্রচারণায় নিষেধাজ্ঞা: কোনো প্রার্থী বা রাজনৈতিক দল ২১ জানুয়ারির আগে পোস্টার, ব্যানার বা অন্য কোনো মাধ্যমে ভোট চাইতে পারবেন না।
- ২১ জানুয়ারি থেকে প্রচারণা: প্রতীক বরাদ্দের পর ২১ জানুয়ারি থেকে প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণা শুরু করতে পারবেন।
- ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে সমাপ্তি: আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার ৪৮ ঘণ্টা আগে (অর্থাৎ ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টার মধ্যে) সব ধরণের প্রচারণা বন্ধ করতে হবে।
আচরণবিধি ও পর্যবেক্ষণ
ইসি জানিয়েছে, বর্তমানে মনোনয়নপত্রের ওপর আপিল গ্রহণ ও নিষ্পত্তি কার্যক্রম চলছে। এই সময়ে প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় জনসংযোগ করতে পারলেও কোনো ধরণের প্রতীক ব্যবহার বা ভোটারের কাছে সমর্থন চেয়ে লিফলেট বিতরণ করতে পারবেন না। আচরণবিধি লঙ্ঘিত হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণের জন্য সারা দেশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের বিশেষ নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শাস্তির বিধান
নির্বাচনী আচরণবিধিমালা-২০২৫ অনুযায়ী, যদি কোনো প্রার্থী বা সমর্থক প্রতীক বরাদ্দের আগে প্রচারণায় অংশ নেন, তবে তা দণ্ডনীয় অপরাধ। এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদণ্ড অথবা ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। এমনকি গুরুতর লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতাও রাখে কমিশন।
বর্তমান নির্বাচনী পরিস্থিতি
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী ২ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল আবেদনের সময় নির্ধারিত রয়েছে। ১০ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে আপিল শুনানি। ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় এবং ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের পর দেশজুড়ে আনুষ্ঠানিক প্রচারণার আমেজ শুরু হবে।
















