উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের তত্ত্বাবধান করেছেন। সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক সংকট ও জটিল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি দেশটির পারমাণবিক প্রতিরোধক্ষমতা আরও জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
সোমবার উত্তর কোরিয়ার সরকারি সংবাদ সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) এসব মহড়ার তথ্য নিশ্চিত করে। এর এক দিন আগে দক্ষিণ কোরিয়ার কর্তৃপক্ষ একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ শনাক্ত করার কথা জানিয়েছিল।
কেসিএনএর প্রতিবেদনে বলা হয়, রোববার পরিচালিত এই মহড়ায় একটি হাইপারসনিক অস্ত্রব্যবস্থার প্রস্তুতি যাচাই, ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনীর যুদ্ধক্ষমতা উন্নয়ন এবং জাতীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থার কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা হয়। কিম জং উনের ভাষ্য অনুযায়ী, এই উৎক্ষেপণের মাধ্যমে জাতীয় প্রতিরক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রযুক্তিগত লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে এবং বিশেষ করে আক্রমণাত্মক অস্ত্রব্যবস্থা নিয়মিত উন্নত করা প্রয়োজন।
সংস্থাটি জানায়, উৎক্ষেপিত ক্ষেপণাস্ত্রগুলো উত্তর কোরিয়ার পূর্বদিকে সমুদ্রে প্রায় এক হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। কিম জং উন বলেন, সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক সংকট ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য পারমাণবিক প্রতিরোধ বজায় রাখা কিংবা সম্প্রসারণ করা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশল।
এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা এমন সময় হলো, যখন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং চীনে শীর্ষ বৈঠকে অংশ নিতে রওনা হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই উত্তর কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের ভেনেজুয়েলায় হামলা এবং দেশটির প্রেসিডেন্টকে আটক করার ঘটনার কড়া সমালোচনা করে একে সার্বভৌমত্বের গুরুতর লঙ্ঘন বলে আখ্যা দেয়।
উত্তর কোরিয়ার নেতৃত্ব দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সরকার পরিবর্তনের প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে নিজেদের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ব্যাখ্যা করে আসছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কোরিয়া ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল ইউনিফিকেশনের গবেষক হং মিনের মতে, সাম্প্রতিক এই পরীক্ষা যুক্তরাষ্ট্রের ভেনেজুয়েলা অভিযানের প্রতিক্রিয়া হিসেবেই দেখা যেতে পারে। তাঁর বিশ্লেষণে ক্ষেপণাস্ত্রটি হোয়াসং-১১ মডেলের বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা গত অক্টোবরে সামরিক কুচকাওয়াজে প্রদর্শিত হয়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, কার্যকর হাইপারসনিক অস্ত্র থাকলে উত্তর কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে সক্ষম হবে। যদিও বিদেশি অনেক বিশেষজ্ঞ এখনো সন্দেহ প্রকাশ করছেন, পরীক্ষিত ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রকৃতপক্ষে কাঙ্ক্ষিত গতি ও নিয়ন্ত্রণক্ষমতা অর্জন করতে পেরেছে কি না।
সম্প্রতি উত্তর কোরিয়া দীর্ঘপাল্লার কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা এবং প্রথম পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন নির্মাণের অগ্রগতির ছবিও প্রকাশ করেছে। পর্যবেক্ষকদের ধারণা, ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির আসন্ন কংগ্রেসকে সামনে রেখে অস্ত্র উন্নয়ন খাতে অর্জিত সাফল্য তুলে ধরতেই এই তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।















