‘বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত’ জনসংখ্যা ৪০ শতাংশ ছাড়ানোর দাবি; বিধানসভা নির্বাচনকে ‘সভ্যতার যুদ্ধ’ ঘোষণা
ভারতের আসাম রাজ্যে ‘বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত’ মানুষের জনসংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ে ফের উস্কানিমূলক ও বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। শনিবার বিজেপির রাজ্য নির্বাহী সভায় তিনি দাবি করেন, আসামে কথিত অনুপ্রবেশকারীদের সংখ্যা ৫০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেলে রাজ্যটিকে বাংলাদেশের অংশ করার প্রচেষ্টা শুরু হতে পারে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেবল রাজনৈতিক লড়াই নয়, বরং ‘সভ্যতার যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি হিন্দুত্ববাদী সেন্টিমেন্টকে উসকে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ |
আসামের জনসংখ্যাতাত্ত্বিক পরিবর্তনের দোহাই দিয়ে হিমন্ত বিশ্বশর্মা রাজ্যবাসীকে সতর্ক করে বলেন, বর্তমানে রাজ্যে ‘বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত’ মানুষের সংখ্যা ৪০ শতাংশে পৌঁছেছে। এটি ৫০ শতাংশ অতিক্রম করলে আসামের অস্তিত্ব ও সংস্কৃতি বিলীন হয়ে যাবে।
‘বাংলাদেশি’ জুজু ও আনুগত্য নিয়ে প্রশ্ন
বক্তব্যে হিমন্ত বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ‘দিপু দাস’ হত্যাকাণ্ডকে উদাহরণ হিসেবে টেনে এনে আসামের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যুদ্ধ হলে এই বিশাল জনগোষ্ঠী কাকে সমর্থন করবে? তাঁর মতে, আগামী ২০ বছরে আসামের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। তিনি অভিযোগ করেন, কংগ্রেসের কয়েক দশকের ‘তোষণ নীতির’ কারণে রাজ্যে ১.৫ কোটি মানুষের এক ‘নতুন সভ্যতা’ গড়ে উঠেছে।
পরিসংখ্যানের লড়াই ও এনআরসি কার্ড
২০১১ সালের আদমশুমারি উদ্ধৃত করে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন:
- সে সময় মুসলিম জনসংখ্যা ছিল ৩৪ শতাংশ, যার মধ্যে ৩১ শতাংশই ছিল ‘বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত’।
- ২০২৭ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ৪০ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে।
- আদিবাসী বা স্থানীয় জনসংখ্যা ইতিমধ্যে ৬০ শতাংশে নেমে এসেছে, যা ভবিষ্যতে আরও হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিজেপির ‘আশার আলো’ ও রাজনৈতিক কৌশল
হিমন্ত বিশ্বশর্মা বিজেপিকে আসামের রক্ষার ‘শেষ আশার আলো’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি দাবি করেন, অনুপ্রবেশকারীদের হাত থেকে রাজ্যকে রক্ষা করতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নেতৃত্বে নিরলস লড়াই চালিয়ে যাবেন। অহোম সেনাপতি লাচিত বরফুকনের বীরত্বগাথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি ভোটারদের আবেগপ্রবণ করার চেষ্টা করেন।
কূটনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আসামের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে ধর্মীয় ও জাতিগত মেরুকরণ তীব্র করতেই হিমন্ত বিশ্বশর্মা এ ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন। একদিকে বাংলাদেশ যখন ভারতের সঙ্গে স্থিতিশীল সম্পর্কের কথা বলছে, তখন ভারতের একজন দায়িত্বশীল মুখ্যমন্ত্রীর এমন অভিযোগ দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ‘আসামকে বাংলাদেশের অংশ করার’ দাবিকে কল্পনাপ্রসূত ও অত্যন্ত আপত্তিকর হিসেবে দেখছে ঢাকা।
















