‘৩০০ আসনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা’; আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে ৩০ নেতার আল্টিমেটাম
নির্বাচনের আগমুহূর্তে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে গঠিত রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনী জোট ও আসন সমঝোতার প্রতিবাদে দলটিতে শুরু হয়েছে গণ-পদত্যাগ। সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারার পর এবার দল ছেড়েছেন যুগ্ম আহ্বায়ক তাসনূভা জাবীনসহ একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা ও সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী। বিক্ষুব্ধ নেতাদের অভিযোগ, এককভাবে ৩০০ আসনে লড়াই করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শেষ মুহূর্তে জোটে যাওয়া জনগণের সঙ্গে স্রেফ ‘রাজনৈতিক প্রতারণা’।
এনসিপি ও জামায়াতের এই ‘অপ্রত্যাশিত’ মোর্চা নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই বাংলামোটরের দলীয় কার্যালয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এনসিপির একটি বড় অংশ মনে করছে, জামায়াতের সঙ্গে এই মেরুকরণ দলটির ঘোষিত ‘মধ্যপন্থি’ ইমেজ ধ্বংস করবে এবং জুলাই বিপ্লবের স্পিরিটকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।
পদত্যাগের মিছিলে যারা
জামায়াত-জোটের সিদ্ধান্তের পর একে একে দল ছাড়ছেন এনসিপির আলোচিত মুখগুলো:
- তাসনূভা জাবীন: যুগ্ম আহ্বায়কের পদ ছেড়ে নির্বাচন না করার ঘোষণা দিয়েছেন।
- আবুল কাশেম: ফেনী-৩ আসনের প্রার্থী ও দল থেকে পদত্যাগ করেছেন।
- মনিরা শারমিন: নওগাঁ-৫ আসন থেকে নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।
- মীর আরশাদুল হক: জামায়াতবিরোধী অংশের নেতা হিসেবে পরিচিত এই নেতাও গত বৃহস্পতিবার দল ছেড়েছেন। এছাড়া জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন ফেসবুকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে লিখেছেন, “জামায়াত নির্ভরযোগ্য মিত্র নয়, এই সমঝোতার জন্য এনসিপিকে কঠিন মূল্য চুকাতে হবে।”
আসন সমঝোতার নেপথ্যে
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এনসিপি ও এবি পার্টি জোটবদ্ধভাবে ৫০টি আসন দাবি করলেও জামায়াত প্রাথমিকভাবে ৩০টি আসন ছাড় দিতে রাজি হয়েছে। রোববার জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমান নিশ্চিত করেছেন যে, এনসিপি ও অলি আহমদের এলডিপি তাদের জোটে যুক্ত হয়েছে এবং আসন সমঝোতাও চূড়ান্ত পর্যায়ে।
৩০ নেতার বিদ্রোহ ও নাহিদ ইসলামকে চিঠি
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে এক কড়া চিঠিতে দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির ৩০ জন নেতা জোটের বিপক্ষে অনাস্থা জানিয়েছেন। চিঠিতে বলা হয়েছে, ৩০০ আসনে একক প্রার্থী দেওয়ার কথা বলে সাধারণ মানুষের কাছে মনোনয়ন ফরম বিক্রি করে এখন জোটে যাওয়া নৈতিকতা বিরোধী। যুগ্ম সদস্য সচিব মুশফিক উস সালেহীন বলেন, “আমরা নতুন ধারার রাজনীতির কথা বলেছিলাম, কিন্তু এই জোট সেই প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।”
দলীয় হাইকমান্ডের অনড় অবস্থান
অভ্যন্তরীণ এই রক্তক্ষরণকে অবশ্য গায়ে মাখছে না এনসিপির মূল নেতৃত্ব। যুগ্ম আহ্বায়ক জাভেদ রাসিন দাবি করেছেন, “এনসিপি কোনো ব্যক্তি বিশেষের ওপর নির্ভরশীল নয়। অধিকাংশের মতামতের ভিত্তিতেই গণতান্ত্রিকভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কেউ চলে গেলে তাতে দলের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়া এনসিপির জন্য ‘শাঁখের করাত’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে আসন পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়েছে, অন্যদিকে শিক্ষিত ও তরুণ প্রজন্মের যে বিশাল সমর্থন দলটির ভিত্তি ছিল, তা হারানোর উপক্রম হয়েছে।
















