‘এনআরবি স্মার্ট সিটি’ ও বিশেষ বিনিয়োগ জোন গড়ার ঘোষণা; ৬ ক্যাটাগরিতে ৫ শতাধিক আবেদন থেকে নির্বাচিতদের পুরস্কার
জাতীয় অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অনবদ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সিলেটে প্রথমবারের মতো আয়োজিত হলো ‘প্রবাসী সম্মাননা-২০২৫’। শনিবার সকালে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিশ্বের ১১টি দেশে ছড়িয়ে থাকা সিলেট জেলার ১০০ জন সফল প্রবাসীকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করেছে জেলা প্রশাসন। অনুষ্ঠানে প্রবাসীদের জন্য করমুক্ত বিনিয়োগ এবং বিশেষ ‘স্মার্ট সিটি’ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ | বিকেল ০৭:১৫ মিনিট
সিলেটের অর্থনীতি ও উন্নয়নে প্রবাসীদের ভূমিকাকে চিরস্থায়ী রূপ দিতে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। শনিবার সকালে ঐতিহাসিক ক্বীন ব্রিজ এলাকা থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। শোভাযাত্রাটি নগরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে রিকাবীবাজারের কবি নজরুল অডিটরিয়ামে গিয়ে শেষ হয়।
৬ ক্যাটাগরিতে সেরাদের জয়জয়কার সিলেট জেলা প্রশাসন গত ১৭ নভেম্বর থেকে ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬টি নির্দিষ্ট ক্যাটাগরিতে আবেদনের আহ্বান জানিয়েছিল। বিশ্বের ১১টি দেশ থেকে মোট ৬ শতাধিক প্রবাসী এই সম্মাননার জন্য আবেদন করেন। দীর্ঘ বাছাই প্রক্রিয়া শেষে ১০০ জন শ্রেষ্ঠ প্রবাসীকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। সম্মাননার ক্যাটাগরিগুলো ছিল:
সফল পেশাজীবী ও ব্যবসায়ী।
সফল কমিউনিটি নেতা ও নারী উদ্যোক্তা।
খেলাধুলায় আন্তর্জাতিক সাফল্য অর্জনকারী।
বিদেশে বাংলাদেশি পণ্য আমদানিকারক।
প্রবাসীদের জন্য ‘স্মার্ট সিটি’ ও বিশেষ বিনিয়োগ সুবিধা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব আব্দুল নাসের খান প্রবাসীদের ‘অর্থনৈতিক অগ্রগতির নায়ক’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, “সরকার প্রবাসীদের জন্য করমুক্ত বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে কাজ করছে। সিলেটে নিরাপদ বিনিয়োগের জন্য একটি ‘এনআরবি বিনিয়োগ জোন’ এবং অত্যাধুনিক ‘এনআরবি স্মার্ট সিটি’ গড়ে তোলা জরুরি। জমি সংক্রান্ত জটিলতা ও প্রশাসনিক হয়রানি দূর করতে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।”
প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী ও জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগর পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ এবং জেলা পুলিশ সুপার কাজী আখতার উল আলম। বক্তারা সিলেটে বিনিয়োগের পরিবেশ নিরাপদ করতে প্রবাসীদের পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্মাননা প্রদান শেষে সন্ধ্যায় সিলেট সার্কিট হাউসে ‘স্থানীয় উন্নয়নে প্রবাসীদের ভূমিকা’ শীর্ষক একটি উচ্চপর্যায়ের সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স কীভাবে টেকসই উন্নয়নে ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়ে রূপরেখা প্রণয়ন করা হবে।
















