উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন দেশটির সামরিক সক্ষমতা আরও জোরদার করতে ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদের উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে অস্ত্র উৎপাদনের জন্য নতুন কারখানা নির্মাণেরও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, সামরিক চাহিদা পূরণে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
দক্ষিণ হামগিয়ং প্রদেশের একাধিক অস্ত্র কারখানা পরিদর্শনের সময় শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে কিম বলেন, সামনে ব্যস্ত সময় অপেক্ষা করছে এবং উৎপাদন খাতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি থাকতে হবে। তার মতে, দেশের যুদ্ধ প্রতিরোধ সক্ষমতা শক্তিশালী করতে ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদ উৎপাদন খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কিম নির্দেশ দেন, সামগ্রিক উৎপাদন সক্ষমতা আরও বাড়াতে নতুন অস্ত্র কারখানা গড়ে তুলতে হবে, যাতে সশস্ত্র বাহিনীর বাড়তে থাকা চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে অস্ত্র সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়।
এর আগের দিন কিমকে একটি জাহাজ নির্মাণ কারখানা পরিদর্শন করতে দেখা যায়, যেখানে উত্তর কোরিয়ার দাবি অনুযায়ী ৮ হাজার ৭০০ টন ওজনের একটি পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন নির্মাণ করা হচ্ছে। এই সাবমেরিন থেকে আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা সম্ভব হবে বলে জানানো হয়। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে কিমকে একটি বড় আকারের, ক্ষয়রোধী রঙে আবৃত জাহাজ পরিদর্শন করতে দেখা যায়। সেখানে তার কন্যা ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
মার্চ মাসের পর এই প্রথম সাবমেরিনটির তুলনামূলক স্পষ্ট ছবি প্রকাশ করা হলো। বিশ্লেষকদের মতে, জাহাজটির কাঠামো ইঙ্গিত দেয় যে এতে পারমাণবিক চুল্লি সংযোজন করা হয়েছে এবং এটি প্রায় সমুদ্রযাত্রার উপযোগী।
সাবমেরিন পরিদর্শনের সময় কিম সতর্ক করে বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন নির্মাণের পরিকল্পনা আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা বাড়াবে এবং এটি উত্তর কোরিয়ার জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি। উল্লেখ্য, গত নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং এই ধরনের সাবমেরিন অর্জনে ওয়াশিংটনের সহায়তা চান। পরে ট্রাম্প জানান, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে আগ্রহী।
এদিকে বৃহস্পতিবার কিম জং উন সাগর অভিমুখে নতুন ধরনের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন দীর্ঘপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ পর্যবেক্ষণ করেন বলেও জানানো হয়। তিনি বলেন, আগামী বছরের শুরুতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির কংগ্রেসে নতুন আধুনিকীকরণ ও উৎপাদন পরিকল্পনা প্রকাশ করা হবে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, সাম্প্রতিক সময়ে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষায় কিমের জোর দেওয়ার পেছনে লক্ষ্য হচ্ছে নির্ভুল আঘাত হানার সক্ষমতা বাড়ানো এবং যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করা। একই সঙ্গে সম্ভাব্য রপ্তানির আগে অস্ত্র ব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাই করাও এর একটি উদ্দেশ্য হতে পারে।
ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর থেকে পিয়ংইয়ং ও মস্কোর সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে সৈন্য, গোলাবারুদ, ক্ষেপণাস্ত্র ও দূরপাল্লার রকেট ব্যবস্থা সরবরাহ করেছে। এর বিনিময়ে রাশিয়া আর্থিক সহায়তা, সামরিক প্রযুক্তি এবং খাদ্য ও জ্বালানি দিয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ওয়াশিংটনের দাবি, মস্কোর সহায়তার মধ্যে উন্নত মহাকাশ ও উপগ্রহ প্রযুক্তিও থাকতে পারে। সাবেক উত্তর কোরীয় নাগরিক ও গবেষক আহন চান-ইল বলেন, পিয়ংইয়ং রাশিয়ার কাছ থেকে পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন ও আধুনিক যুদ্ধবিমানসহ উন্নত সামরিক প্রযুক্তি পাওয়ার চেষ্টা করতে পারে।
















