নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫
দীর্ঘ নির্বাসন শেষে দেশে ফিরেই এক বিশাল জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাজধানীর পূর্বাচলে ‘জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে’ সংলগ্ন এলাকায় আয়োজিত ঐতিহাসিক গণসংবর্ধনা মঞ্চে তিনি ঘোষণা করেন, ধর্ম-বর্ণ ও জাতিসত্তা নির্বিশেষে সবার জন্য একটি নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নিশ্চিত করাই এখন প্রধান লক্ষ্য।
লাখো মানুষের ঢল ও আবেগঘন সম্বোধন বৃহস্পতিবার রাতে আয়োজিত এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লাখ লাখ নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে তারেক রহমান তার বক্তব্যের শুরুতেই সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। দীর্ঘ সময় পর প্রিয় মাতৃভূমিতে ফিরতে পেরে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আপনাদের দোয়া ও ভালোবাসায় আজ আমি আমার প্রিয় দেশে, আপনাদের মাঝে ফিরে আসতে পেরেছি।”
জাতীয় ঐক্যের ডাক: নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় তারেক রহমান তার বক্তব্যে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও বৈচিত্র্যের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “এই দেশে পাহাড় এবং সমতলের মানুষ যেমন আছে, তেমনি রয়েছে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ বিভিন্ন ধর্মের সহাবস্থান। আমরা এমন এক বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে একজন মা তার সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে নিশ্চিত থাকবেন। আমরা স্বপ্নের সেই নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে বদ্ধপরিকর।”
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও ছাত্র-জনতার বিপ্লব বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলো স্মরণ করেন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লব এবং ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের ধারাবাহিকতা টেনে তিনি ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানকে দ্বিতীয় স্বাধীনতা হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, “৫ আগস্ট এ দেশের ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ দলমত নির্বিশেষে রাজপথে নেমে সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছে। ষড়যন্ত্র এখনো থেমে নেই, তবে জনগণের ঐক্য সব বাধা জয় করবে।”

রাজনৈতিক নেতৃত্বের সংহতি মঞ্চে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের স্থায়ী কমিটির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া দীর্ঘদিনের যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতৃবৃন্দ—আন্দালিভ রহমান পার্থ, সাইফুল হক, জোনায়েদ সাকি, নুরুল হক নূর এবং ববি হাজ্জাজসহ বিশিষ্ট নাগরিক ও বুদ্ধিজীবীরা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সংহতি প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠান শেষে তারেক রহমান কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে গুলশানের বাসভবনের উদ্দেশ্যে রওনা হন। এর আগে তার আগমনকে কেন্দ্র করে বিমানবন্দর থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।















