মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে ১০ লক্ষাধিক মানুষের সমাগমের লক্ষ্য: নির্বাচনের আগে বড় শক্তি প্রদর্শনের প্রস্তুতি
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার এবং দেশব্যাপী অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবিতে রাজধানীতে বিশাল মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
তারিখ: ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
জুলাই বিপ্লবের অন্যতম অগ্রসৈনিক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে রাজপথে বড় ধরনের কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আগামী ৩ জানুয়ারি (শুক্রবার) দুপুর ১২টায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে এই মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মহাসমাবেশ সফল করতে সোমবার (২২ ডিসেম্বর) রাতে জামায়াতের ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখা বিশেষ সমন্বয় সভা করেছে। দলীয় সূত্রমতে, এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে সারাদেশে থেকে ১০ লক্ষাধিক নেতাকর্মীর সমাগম ঘটানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
মৌলিক দুই দাবি ও নির্বাচনের পরিবেশ জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ কর্মসূচির লক্ষ্য ব্যাখ্যা করে বলেন, “শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সব অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করে সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, এই দুটি মৌলিক দাবি পূরণ না হলে নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বা সমান সুযোগ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ দলের আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মাসুম বলেন, দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারকে চাপ দিতেই এই মহাসমাবেশ আয়োজন করা হচ্ছে। সমাবেশ থেকে দেশ ও জনগণের স্বার্থে রাজপথে দৃঢ় ও স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক প্রস্তুতি মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে বড় ধরনের জনসমাগম ঘটিয়ে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তির জানান দেওয়ার পাশাপাশি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে বিচার ও নিরাপত্তার দাবি জোরালো করাই জামায়াতের মূল কৌশল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
















