যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রোড আইল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের ব্রাউন ইউনিভার্সিটিতে গুলিতে দুইজন নিহত হওয়ার ঘটনায় আটক করা এক ‘ব্যক্তিগত আগ্রহের ব্যক্তি’কে মুক্তি দিয়েছে পুলিশ। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে ওই ব্যক্তি ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন এবং প্রকৃত হামলাকারী এখনও পলাতক রয়েছে।
রোববার গভীর রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রভিডেন্স শহরের মেয়র ব্রেট স্মাইলি জানান, বিশের কোঠায় বয়সী ওই যুবককে প্রাথমিকভাবে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হলেও পরবর্তীতে প্রমাণের ভিত্তিতে তাকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ভবনে পরীক্ষা চলাকালে এক ব্যক্তি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে দুই শিক্ষার্থী নিহত হন এবং অন্তত নয়জন আহত হন। হামলার পর বন্দুকধারী পালিয়ে যায়, যার ফলে ক্যাম্পাসজুড়ে বড় ধরনের তল্লাশি অভিযান শুরু হয় এবং সাময়িকভাবে শিক্ষার্থীদের ঘরের ভেতরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।
রোড আইল্যান্ডের অ্যাটর্নি জেনারেল পিটার নেরোনহা বলেন, প্রাথমিকভাবে কিছু তথ্যের ভিত্তিতে ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছিল, তবে পরবর্তী তদন্তে স্পষ্ট হয় যে তার সঙ্গে হামলার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তিনি জানান, এখনো মামলাটি সমাধান হয়নি, তবে শিগগিরই অপরাধীকে শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিরাপত্তা ক্যামেরায় ধারণ করা এক অজ্ঞাত ব্যক্তিকেই মূল সন্দেহভাজন হিসেবে খোঁজা হচ্ছে। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, সাতজন স্থিতিশীল এবং একজনকে চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনার পর ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন এবং অ্যালকোহল, তামাক, আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক ব্যুরোসহ ৪০০-এর বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য অভিযানে অংশ নেন। কয়েক ঘণ্টা ধরে শিক্ষার্থীরা ভবনের ভেতরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।
রোববার পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ক্যাম্পাসে দেওয়া ‘শেল্টার ইন প্লেস’ নির্দেশনা তুলে নেওয়া হয়েছে, তবে ঘটনাস্থল এখনও সক্রিয় অপরাধস্থল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং কিছু এলাকায় প্রবেশ সীমিত রাখা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, হামলাকারী মুখে মাস্ক পরে থাকতে পারে এবং ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। কেন ওই স্থানে হামলা চালানো হলো, সে বিষয়েও তদন্ত চলছে। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এটি দ্বিতীয় প্রাণঘাতী গুলির ঘটনা; এর আগে কেন্টাকি স্টেট ইউনিভার্সিটিতেও গুলির ঘটনা ঘটে।
গান ভায়োলেন্স আর্কাইভের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে চার বা তার বেশি মানুষ গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩৮৯টি গণগুলির ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে অন্তত ছয়টি ঘটেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।
















