মেডিকেল শিক্ষার্থী থেকে বিসিএসে সাফল্য—তবু অতীত ছাত্ররাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে বিতর্ক
৪৫তম বিসিএসের পুলিশ ক্যাডারে নির্বাচিত শীর্ষ তিনজনের দু’জন—ডা. সাদিয়া সুলতানা মিতু ও ডা. হাদীদ হাসান হিমেল—অতীতে ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সহপাঠীদের অভিযোগ, তারা সংগঠনটির সক্রিয় নেত্রী–কর্মী ছিলেন, যদিও দু’জনই ব্যক্তিগতভাবে অপব্যবহার বা নিপীড়নের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বিষয়টি নিয়ে ক্যাম্পাসে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
৪৫তম বিসিএসের পুলিশ ক্যাডারের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে শীর্ষস্থানপ্রাপ্তদের অতীত ছাত্ররাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে। সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি) প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, পুলিশ ক্যাডারে শীর্ষ তিনজনই মেডিকেল শিক্ষার্থী। অনুসন্ধানে জানা গেছে, এদের দু’জন—ডা. সাদিয়া সুলতানা মিতু এবং ডা. হাদীদ হাসান হিমেল—পূর্বে ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।
দ্বিতীয় স্থানপ্রাপ্ত ডা. সাদিয়া সুলতানা মিতু পড়েছেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের ডেন্টাল ইউনিটে। ২০১৫–১৬ সেশনের শিক্ষার্থী মিতু ২০২২ সালে শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি হন। সহপাঠীদের অভিযোগ, সে সময় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের বিভিন্ন অস্থিরতা ও নিপীড়নের ঘটনার মধ্যেই নেতৃত্বে উঠে আসেন তিনি। যদিও মিতু নিজে দাবি করেছেন, পদটি তিনি ধারণ করেছিলেন মূলত হোস্টেলে থাকার প্রয়োজনের কারণে; ব্যক্তিগতভাবে কোনো অনিয়ম বা নিপীড়নে তিনি জড়িত ছিলেন না।
মিতু বলেন, “হোস্টেলে থাকতে হলে কমবেশি সবাইকেই ছাত্রলীগের সঙ্গে ওঠাবসা করতে হতো। আমি ব্যক্তিগতভাবে কাউকে জুলুম করিনি, তবে পদটি নেওয়াই জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল ছিল।”
তৃতীয় স্থানপ্রাপ্ত ডা. হাদীদ হাসান হিমেল রংপুর মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। সহপাঠীদের দাবি, কমিটিতে পদ না থাকলেও হিমেল ছাত্রলীগের একটি প্রভাবশালী গ্রুপে সক্রিয় ছিলেন এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিতেন। যদিও তিনিও ব্যক্তিগতভাবে কারও ওপর নিপীড়ন চালাননি বলে সহপাঠীদের অভিমত।
হিমেল নিজে ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করে বলেন, “আমার রুমমেট শিবিরের ছিল, আরেক রুমমেট ছাত্রদলের সভাপতি। তাই কারও সঙ্গে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ছিল না। আমি কোনো কমিটিতেই ছিলাম না, সবসময় নন-পলিটিক্যাল ব্লকে ছিলাম।”
সহপাঠীদের বয়ানে উঠে এসেছে, ওই সময় ছাত্রলীগের সামগ্রিক আচরণ ক্যাম্পাসে ভয়ভীতি ও দমন-পীড়নের পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল। ফলে শীর্ষস্থানপ্রাপ্ত দুই শিক্ষার্থীর নাম তালিকায় আসায় তাদের অতীত রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
তবে ব্যক্তিগত সক্ষমতা ও মেধার ভিত্তিতেই তারা বিসিএসে ভালো করেছেন বলে মনে করেন সহপাঠীদের একটি অংশ।
















