স্থানীয়দের উদ্যোগে বাঁশের বান্ডাল ও জিও ব্যাগে তৈরি অস্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ভাঙন থেমেছে; তবুও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি নদীতীরের বাসিন্দাদের।
কুড়িগ্রামের রৌমারীতে জিঞ্জিরাম নদীর ভাঙন ঠেকাতে স্থানীয়দের স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত বাঁশের বান্ডাল ৪০০ পরিবারকে রক্ষা করেছে। জিও ব্যাগ সরবরাহ করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। তবে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জোরদার হচ্ছে।
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার জিঞ্জিরাম নদীর ভয়াবহ ভাঙন ঠেকাতে স্থানীয়দের স্বেচ্ছাশ্রমে তৈরি বাঁশের বান্ডাল ও জিও ব্যাগের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবার অন্তত ৪০০ পরিবারকে নদীর আগ্রাসন থেকে রক্ষা করেছে। বহু বছর ধরে নদীভাঙন এই অঞ্চলে মানুষের ঘরবাড়ি, জমিজমা এবং জীবিকা কেড়ে নিলেও গত বছরের শেষে নেওয়া এক স্থানীয় উদ্যোগ বদলে দেয় পরিস্থিতি।
জিঞ্জিরাম নদীর তীরবর্তী যাদুরচর ইউনিয়নের বকবান্ধা এলাকায় সড়কপথ প্রায় নেই বললেই চলে। নৌকার ওপর নির্ভরশীল মানুষের জীবন নদীকেন্দ্রিক। এ নদীই আবার একটু ঢল নামলেই হয়ে ওঠে ভয়ংকর। প্রতি বছর ভাঙনের কবলে পড়ে ঘরবাড়ি হারানো মানুষের আর্তি আরোই বেড়ে যাচ্ছিল।
২০২৫ সালের শুরুতে স্থানীয়রা বৈঠকে বসে সিদ্ধান্ত নেন—দ্রুত কার্যকর সমাধান হিসেবে বড় বাঁধের পরিবর্তে বান্ডাল বসানো হবে। স্থানীয় চাঁদা, ইউনিয়ন পরিষদের অনুদান ও বেসরকারি সংস্থা আরডিআরএস বাংলাদেশের ট্রোসা-২ প্রকল্পের কারিগরি সহায়তায় ফেব্রুয়ারির মধ্যে ৬০০ মিটার এলাকাজুড়ে ২৭টি বান্ডাল স্থাপন করা হয়। তাতে স্রোতের চাপ তীর থেকে অনেকটা সরে যায়।

তবে বর্ষার জোয়ারে বান্ডালের পাশে আরও শক্ত প্রতিরক্ষা প্রয়োজন হয়। এরপর ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল পানি উন্নয়ন বোর্ডে জিও ব্যাগের আবেদন জানায়। জিও ব্যাগ পাওয়ার পর স্থানীয়রা স্বেচ্ছাশ্রমে আরও শক্তিশালী বাঁধ প্রস্তুত করেন।
নদীতীরে সবজি লাগাতে থাকা ৬৫ বছর বয়সী আকিয়া বেগম জানান, “এক বছরে দুই বিঘা জমি ভাঙল। রান্নাঘর পর্যন্ত ভাঙন এসে পড়েছিল। এখন বান্ডাল দেওয়ায় ভাঙন থেমেছে।” স্থানীয় আতাউর রহমান ও আহম্মদ আলীর অভিজ্ঞতাও একই—এই উদ্যোগ তাদের ঘরবাড়িকে বাঁচিয়েছে।
স্থানীয় আনজু বেগম জানান, ধনী-গরিব সবার কাছ থেকেই চাঁদা তুলে মোট ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহ করা হয়, ইউনিয়ন পরিষদ দেয় আরও এক লাখ। “স্বেচ্ছাশ্রমে নিজেদের ঘরবাড়ি বাঁচাইছি,” বলেন তিনি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, স্থানীয়দের চাহিদার ভিত্তিতে জরুরি জিও ব্যাগ সরবরাহ করা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, স্থায়ী বাঁধের জন্য প্রস্তাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
যদিও অস্থায়ী সমাধানে এখনকার ভাঙন থেমে আছে, তবুও প্রায় ৪০০ পরিবারের দুই হাজার মানুষ এখনো ঝুঁকিতে। হুমকিতে রয়েছে স্থানীয় বাজার, দুটি মসজিদ, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ঈদগাহ মাঠ ও কবরস্থানও।
ট্রোসা-২ প্রকল্পের কর্মকর্তারা বলছেন—স্থানীয় স্বেচ্ছাশ্রম, কারিগরি সহায়তা ও সরকারি সহযোগিতার সমন্বিত প্রচেষ্টায় এখন তীর ভাঙন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে।
জিঞ্জিরাম নদীর ভাঙন থামলেও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি আরও জোরালো হচ্ছে নদীতীরবর্তী মানুষের কণ্ঠে।














