ওয়াশিংটন ডিসির নীরব সকালে হঠাৎ ভেঙে পড়েছিল গুলির শব্দ, আর সেই অস্থিরতার প্রতিধ্বনি এখন নতুন করে ফিরছে আদালতের চার্জশিটে। মার্কিন রাজধানীতে দুই ন্যাশনাল গার্ড সদস্যের ওপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত আফগান নাগরিক রহমতুল্লাহ লাকানওয়ালের বিরুদ্ধে এবার হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। তার গুলিতে আহত সেনা সদস্য সারা বেকস্ট্রম শুক্রবার জীবনযুদ্ধ হেরে গেলে এই অভিযোগ আরও ভারী হয়ে ওঠে।
মার্কিন অ্যাটর্নি জেনিন পিরো শুক্রবার জানান, শুধু হামলার অভিযোগ নয়, লাকানওয়াল এখন প্রথম-ডিগ্রি হত্যার অভিযোগের মুখোমুখি। তিনি বলেন, আরও অভিযোগ যোগ হবে, কিন্তু প্রথম ধাপে হামলার মামলা রূপ নিচ্ছে খুনের মামলায়।
দুই দিন আগে, হোয়াইট হাউসের কাছেই ২০ বছর বয়সী বেকস্ট্রম এবং ২৪ বছর বয়সী অ্যান্ড্রু উলফে গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে লাকানওয়ালের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার রাতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিশ্চিত করেন—বেকস্ট্রম আর ফিরবেন না। তার মৃত্যু এই ঘটনাকে আরও গভীর বেদনার ছায়ায় ঢেকে দেয়। উলফ এখনো সংকটাপন্ন অবস্থায় লড়াই করছেন হাসপাতালে।
অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি আগেই বলেছিলেন, যদি কোনো সেনা সদস্য মারা যায়, তাহলে লাকানওয়ালের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড চাওয়া হবে। এদিকে এফবিআই ঘটনাটিকে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে তদন্ত করছে।
এই ঘটনার পর অভিবাসন নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অবস্থান আরও কঠিন আকার ধারণ করেছে। প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেছেন—যুক্তরাষ্ট্রে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো থেকে অভিবাসন গ্রহণ স্থায়ীভাবে স্থগিত করা হবে। তিনি আরও বলেন, যারা দেশের জন্য “সম্পদ নয়, কিংবা দেশকে ভালোবাসতে অক্ষম”—তাদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার জায়গা নেই।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই নীতিকে “সমষ্টিগত শাস্তি” বলে আখ্যা দিচ্ছে। তাদের মতে, একজনের কর্মকাণ্ডের জন্য আশ্রয়প্রার্থীদের দোষারোপ করা মানবিকতার পরিপন্থী।
এদিকে লাকানওয়ালকে ঘিরে নতুন তথ্যও সামনে এসেছে। তিনি আফগানিস্তানে সিআইএ–সমর্থিত “জিরো ইউনিটের” সদস্য ছিলেন বলে জানা গেছে—যে ইউনিটের বিরুদ্ধে বহুবার মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। তার একজন বন্ধুর দাবি, এই অভিজ্ঞতা লাকানওয়ালের মানসিক অবস্থায় গভীর ক্ষত তৈরি করেছিল।
সরকারি নথিতে দেখা গেছে, তিনি ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আশ্রয়ের আবেদন করেন, এবং ২০২৫ সালের এপ্রিলে তার আবেদন অনুমোদিত হয়—ট্রাম্পের দ্বিতীয় দফা প্রেসিডেন্সির সময়ই। কর্মকর্তারা তখন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতার কারণে তাকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।
অভিবাসন ও শরণার্থীদের নিয়ে নতুন করে যে ঝড় উঠেছে, তার কেন্দ্রে এখন দাঁড়িয়ে এই একটি ঘটনা। কিন্তু মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি—একজন মানুষের অপরাধকে যেন হাজারো নিরীহ মানুষের ভাগ্যে বোঝা করে না তোলা হয়।
তাদের ভাষায়, মানুষের নিরাপত্তার আকুতি কখনোই অন্যায়ের ছায়ায় ঢাকা পড়া উচিত নয়। আফগান-আমেরিকান ফাউন্ডেশনও আহ্বান জানাচ্ছে—ভয় নয়, তথ্যের ওপর দাঁড়িয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যেন এই ঘটনা বিভাজনের আগুন না বাড়ায়, বরং সহমর্মিতা আর ন্যায়বোধের পথ খোঁজে সমাজ।
















