ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হলেও চূড়ান্ত সমঝোতা এখনো অনেক দূরে বলে জানিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ। যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে এই মন্তব্য নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়েছে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে গালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে, তবে এখনও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অমীমাংসিত রয়ে গেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, যেকোনো সময় আবারও সংঘাত শুরু হওয়ার জন্য ইরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, কোনো রাষ্ট্রেরই ইরানের পারমাণবিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার ক্ষমতা নেই। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে একটি দেশের অধিকার সীমিত করার দাবি করে।
আলোচনায় প্রধান অচলাবস্থার দুটি বিষয় হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ। ইরান সম্প্রতি আবারও প্রণালীতে চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের প্রতিক্রিয়ায়।
গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রের এই অবরোধকে অবিবেচক আখ্যা দিয়ে বলেন, ইরানের জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে অন্য দেশগুলোকেও প্রণালী ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। হরমুজ প্রণালীকে তিনি আলোচনায় ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করেন।
মধ্যস্থতাকারীরা নতুন দফা আলোচনার চেষ্টা চালিয়ে গেলেও এখনো কোনো নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করা হয়নি। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পারস্পরিক সমঝোতার কাঠামো তৈরি না হওয়া পর্যন্ত নতুন বৈঠক সম্ভব নয়।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হরমুজ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে চাপ দেওয়া যাবে না। তিনি সতর্ক করে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমঝোতা না হলে আবারও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে আলোচনা চললেও অন্যদিকে সামরিক চাপ ও অবরোধ পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে। ফলে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
















