যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর গ্রেপ্তারে তথ্য দিলে পুরস্কার দ্বিগুণ বাড়িয়ে ৫০ মিলিয়ন ডলার ঘোষণা করেছেন, যা মার্কিন ইতিহাসের অন্যতম সর্বোচ্চ পুরস্কার। তবে এই কৌশল কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা সন্দেহ প্রকাশ করছেন।
হিউস্টনে বসবাসকারী ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রসিকিউটর মারিয়া জানান, পুরস্কার বাড়ানোর খবর তাকে আনন্দিত না করলেও এক ধরনের “ন্যায্যতার অনুভূতি” দিয়েছে। তার মতে, মানবাধিকার লঙ্ঘনে জর্জরিত মাদুরো সরকারের বিরুদ্ধে এটি একটি জোরালো বার্তা। তিনি ২০১৭ সালে নিপীড়নের ভয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন।
তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এই কৌশল বুমেরাং হতে পারে। জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক অ্যালেক্স ডাউন্স বলেন, শুধুমাত্র পুরস্কার দিয়ে কোনো দেশের সরকার পতন ঘটার ঘটনা নেই। অতীতের উদাহরণ—নরিয়েগা, সাদ্দাম হোসেন—সব ক্ষেত্রেই সামরিক হস্তক্ষেপ বা আগেই ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর পুরস্কার কার্যকর হয়েছে।
ট্রাম্প ও মাদুরোর দীর্ঘদিনের বিরোধের মধ্যে পুরস্কার এখন নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে। ২০১৭ সালে ট্রাম্প প্রশাসন মাদুরোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ২০১৯ সালে মার্কিন প্রশাসন বিরোধী নেতা হুয়ান গুয়াইদোকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। পরবর্তীতে পুরস্কারের পরিমাণ ১৫ মিলিয়ন নির্ধারণ করা হয়, যা বাইডেনের আমলে বাড়ে ২৫ মিলিয়নে। ২০২৫ সালে আবার ট্রাম্প তা বাড়িয়ে দেন ৫০ মিলিয়ন ডলারে।
মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি বলেন, মাদুরো “ন্যায়বিচার এড়াতে পারবে না”। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে এবং ভেনেজুয়েলা থেকে আসা বলে অভিযোগ থাকা নৌকা ধ্বংস করছে।
বিশ্লেষক নিকোলাস গ্রসম্যান বলেন, মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হলে ভেনেজুয়েলার ভঙ্গুর অবস্থা আরও খারাপ হতে পারে—বাড়বে দারিদ্র্য, সহিংসতা, সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর প্রভাব এবং যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন।
পুরস্কারকে ঘিরে নানা ব্যর্থ প্রচেষ্টার উদাহরণও রয়েছে। ২০২০ সালে সাবেক গ্রিন বেরেট জর্ডান গদ্রো মাদুরোর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার চেষ্টা করেন—যা ব্যর্থ হয় এবং অনেকেই আটক হন। সম্প্রতি ভেনেজুয়েলার এক পাইলটকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রভাবিত করার চেষ্টা হয়েছিল, সেটিও ব্যর্থ হয়।
তবু দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া ভেনেজুয়েলানরা পুরস্কারকে বিচার প্রতিষ্ঠার প্রতীক হিসেবে দেখছেন। টেক্সাসে থাকা অভিবাসী আমিন্তা বলেন, মাদুরোর ওপর পুরস্কার প্রমাণ করে তিনি একজন “অপরাধী”।
মারিয়া জানান, তাকে সরকারি চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয় কারণ তিনি দুর্নীতি ও মিথ্যা মামলায় অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় চেয়ে তিনি আপাতত টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাসে আছেন, তবে ফেরত পাঠানোর ভয় তাকে তাড়িয়ে বেড়ায়।
তবু তিনি বলেন, পুরস্কার অন্তত তাকে এই বিশ্বাস দেয় যে তার ওপর অত্যাচারকারীকে অপরাধী হিসেবে দেখা হচ্ছে। তার ভাষায়, “আমাদের আশা আছে। আর এই আশা সরল নয়—বাস্তব।”
















