চীন তাদের তিয়ানগং মহাকাশ স্টেশনে অবস্থানরত তিন নভোচারীর জন্য জরুরি ভিত্তিতে একটি মানববিহীন মহাকাশযান পাঠিয়েছে, কারণ তাদের ফিরে আসার নির্ধারিত ক্যাপসুলটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে।
মঙ্গলবার স্থানীয় সময় দুপুরের পরপরই জিউকুয়ান স্যাটেলাইট লঞ্চ সেন্টার থেকে লং মার্চ-২এফ রকেটে শেনঝোউ-২২ উড়াল দেয়, যা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভির লাইভ সম্প্রচারে দেখানো হয়।
শেনঝোউ-২২ মূলত ২০২৬ সালে মানব মিশন হিসেবে পাঠানোর কথা ছিল। তবে তিয়ানগং স্টেশনে যুক্ত থাকা শেনঝোউ-২০-এ ধ্বংসাবশেষের আঘাতে ক্ষতি হওয়ায় পরিকল্পনা বদলানো হয়। এ ক্যাপসুলটি এখন আর নভোচারী পরিবহনের জন্য নিরাপদ নয়।
গত নভেম্বরে নিয়মিত ক্রু পরিবর্তন ব্যাহত হয়, ফলে এপ্রিল থেকে ছয় মাসের মিশনে থাকা নভোচারীরা শেনঝোউ-২১ ব্যবহার করে পৃথিবীতে ফিরতে বাধ্য হন। এর ফলে স্টেশনে অবস্থানরত বর্তমান তিন নভোচারী—ঝ্যাং লু, উ ফেই এবং ঝ্যাং হংঝ্যাং—জরুরি পরিস্থিতিতে ফেরার মতো কোনো কার্যকরী ক্যাপসুল ছাড়াই আটকে পড়েছিলেন।
অমানবিক শেনঝোউ-২২ এখন সেই ঘাটতি পূরণ করবে বলে চীনা কর্মকর্তারা জানান। তারা আরও বলেছেন, স্টেশনে থাকা নভোচারীরা “স্বাভাবিকভাবে কাজ করছেন”।
ঘটনাটি চীনের দ্রুত অগ্রসরমান মহাকাশ কর্মসূচির জন্য একটি বিরল প্রতিকূলতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। দেশটি ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে নভোচারী পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে এবং গত কয়েক দশকে মহাকাশ খাতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছে।
চীন ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের পর তৃতীয় দেশ হিসেবে মানুষকে কক্ষপথে পাঠাতে সক্ষম হয়।
















