Dhaka ০৩:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

সুদের টাকা দরিদ্র আত্মীয়কে দেওয়া যাবে?

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৩:৪৮:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
  • ১০ বার দেখা হয়েছে

ইসলাম ধর্মে সুদ বা রিবা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল ও সুদকে হারাম বলে ঘোষণা করেছেন। একজন মুমিনের দায়িত্ব হলো যেকোনো মূল্যে সুদভিত্তিক লেনদেন থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ দূরে রাখা। তবে দৈনন্দিন ব্যাংকিং কার্যক্রম বা বিভিন্ন হিসাবের সঙ্গে যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে কিছু সুদের অর্থ যুক্ত হয়ে যায়, তবে সেই টাকা নিয়ে কী করা উচিত—এ নিয়ে অনেকের মনেই সংশয় কাজ করে। ইসলামি ফিকহবিদদের মতে, এই সুদের অর্থ নিজের ব্যক্তিগত কোনো কাজে বা ভোগে ব্যবহার করা যাবে না; তবে একান্ত প্রয়োজনে তা কোনো দরিদ্র ও অভাবী মানুষের কল্যাণে ব্যয় করে দায়মুক্ত হওয়া যেতে পারে।

বিশেষ করে কোনো দরিদ্র আত্মীয় যদি সত্যিই চরম অভাবের মধ্যে থাকেন এবং তার মৌলিক চাহিদা পূরণের মতো পর্যাপ্ত সম্পদ না থাকে, তবে তাকে এই সুদের অর্থ দিয়ে সহায়তা করা বৈধ বলে হানাফি ফিকহের একাধিক প্রামাণিক ফতোয়ায় উল্লেখ করা হয়েছে। দারুল উলুম দেওবন্দের একটি ফতোয়া অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট আত্মীয় যদি জাকাত গ্রহণের উপযুক্ত ও যোগ্য হন, তবে তাকে সুদের অর্থ প্রদান করা জায়েজ। এক্ষেত্রে ভাই, বোন, চাচা, ফুফু, মামা কিংবা অন্য কোনো নিকটাত্মীয় যদি প্রকৃত অর্থেই সংকটে থাকেন, তবে তাদের চিকিৎসা, খাদ্য, বস্ত্র বা শিক্ষার মতো জরুরি প্রয়োজন মেটাতে এই অর্থ দেওয়া যেতে পারে। তবে বিলাসবহুল বা কোনো অপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় করার জন্য এই অর্থ দেওয়া কখনোই সমীচীন নয়।

তবে এই অর্থ প্রদানের ক্ষেত্রে নিয়তের বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও কঠোরভাবে পালনীয়। সুদের টাকা দেওয়ার সময় মনে কোনোভাবেই এই ভাবনা রাখা যাবে না যে, ‘আমি সদকার সওয়াব বা পুণ্য অর্জনের জন্য এটি দিচ্ছি।’ মূলত এটি কোনো সদকা নয়, বরং হারাম অর্থ নিজের সম্পদ ও জিম্মা থেকে সরিয়ে নেওয়ার একটি উপায় মাত্র। এছাড়া, শরিয়তের বিধান অনুযায়ী যে সমস্ত আত্মীয়ের ভরণপোষণ বা আর্থিক ব্যয়ভার বহন করার আইনি বা ধর্মীয় দায়িত্ব সরাসরি নিজের ওপর বর্তায়, তাদের ক্ষেত্রে নিজের সেই বাধ্যতামূলক দায়িত্ব পালনের বিকল্প হিসেবে সুদের টাকা ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কারণ এর মাধ্যমে নিজের ওপর থাকা আর্থিক দায়িত্ব ও কর্তব্যে অবহেলা বা তা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

পরিশেষে, যেকোনো উপায়ে সুদের অর্থ অনিচ্ছাকৃতভাবে হাতে চলে আসলে তা দ্রুত নিজের সম্পদ থেকে পৃথক করে ফেলতে হবে এবং কোনো অবস্থাতেই জেনেবুঝে সুদভিত্তিক হিসাব বা বিনিয়োগ চালিয়ে যাওয়া যাবে না।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

সুদের টাকা দরিদ্র আত্মীয়কে দেওয়া যাবে?

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৩:৪৮:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

ইসলাম ধর্মে সুদ বা রিবা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল ও সুদকে হারাম বলে ঘোষণা করেছেন। একজন মুমিনের দায়িত্ব হলো যেকোনো মূল্যে সুদভিত্তিক লেনদেন থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ দূরে রাখা। তবে দৈনন্দিন ব্যাংকিং কার্যক্রম বা বিভিন্ন হিসাবের সঙ্গে যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে কিছু সুদের অর্থ যুক্ত হয়ে যায়, তবে সেই টাকা নিয়ে কী করা উচিত—এ নিয়ে অনেকের মনেই সংশয় কাজ করে। ইসলামি ফিকহবিদদের মতে, এই সুদের অর্থ নিজের ব্যক্তিগত কোনো কাজে বা ভোগে ব্যবহার করা যাবে না; তবে একান্ত প্রয়োজনে তা কোনো দরিদ্র ও অভাবী মানুষের কল্যাণে ব্যয় করে দায়মুক্ত হওয়া যেতে পারে।

বিশেষ করে কোনো দরিদ্র আত্মীয় যদি সত্যিই চরম অভাবের মধ্যে থাকেন এবং তার মৌলিক চাহিদা পূরণের মতো পর্যাপ্ত সম্পদ না থাকে, তবে তাকে এই সুদের অর্থ দিয়ে সহায়তা করা বৈধ বলে হানাফি ফিকহের একাধিক প্রামাণিক ফতোয়ায় উল্লেখ করা হয়েছে। দারুল উলুম দেওবন্দের একটি ফতোয়া অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট আত্মীয় যদি জাকাত গ্রহণের উপযুক্ত ও যোগ্য হন, তবে তাকে সুদের অর্থ প্রদান করা জায়েজ। এক্ষেত্রে ভাই, বোন, চাচা, ফুফু, মামা কিংবা অন্য কোনো নিকটাত্মীয় যদি প্রকৃত অর্থেই সংকটে থাকেন, তবে তাদের চিকিৎসা, খাদ্য, বস্ত্র বা শিক্ষার মতো জরুরি প্রয়োজন মেটাতে এই অর্থ দেওয়া যেতে পারে। তবে বিলাসবহুল বা কোনো অপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় করার জন্য এই অর্থ দেওয়া কখনোই সমীচীন নয়।

তবে এই অর্থ প্রদানের ক্ষেত্রে নিয়তের বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও কঠোরভাবে পালনীয়। সুদের টাকা দেওয়ার সময় মনে কোনোভাবেই এই ভাবনা রাখা যাবে না যে, ‘আমি সদকার সওয়াব বা পুণ্য অর্জনের জন্য এটি দিচ্ছি।’ মূলত এটি কোনো সদকা নয়, বরং হারাম অর্থ নিজের সম্পদ ও জিম্মা থেকে সরিয়ে নেওয়ার একটি উপায় মাত্র। এছাড়া, শরিয়তের বিধান অনুযায়ী যে সমস্ত আত্মীয়ের ভরণপোষণ বা আর্থিক ব্যয়ভার বহন করার আইনি বা ধর্মীয় দায়িত্ব সরাসরি নিজের ওপর বর্তায়, তাদের ক্ষেত্রে নিজের সেই বাধ্যতামূলক দায়িত্ব পালনের বিকল্প হিসেবে সুদের টাকা ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কারণ এর মাধ্যমে নিজের ওপর থাকা আর্থিক দায়িত্ব ও কর্তব্যে অবহেলা বা তা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

পরিশেষে, যেকোনো উপায়ে সুদের অর্থ অনিচ্ছাকৃতভাবে হাতে চলে আসলে তা দ্রুত নিজের সম্পদ থেকে পৃথক করে ফেলতে হবে এবং কোনো অবস্থাতেই জেনেবুঝে সুদভিত্তিক হিসাব বা বিনিয়োগ চালিয়ে যাওয়া যাবে না।