বাংলাদেশে তরুণী ও নারীদের নেতৃত্ব বিকাশে এক বছরব্যাপী ‘শি লিডস টুমরো’ উদ্যোগ শেষ হয়েছে। জাতিসংঘের যৌথ এসডিজি তহবিলের অর্থায়নে এবং জাতিসংঘের নারী সংস্থা, জাতিসংঘ প্রকল্প সেবা দপ্তর ও বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কের কার্যালয়ের যৌথ বাস্তবায়নে পরিচালিত এ কর্মসূচিতে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীর সরকারি স্কুল, মাদ্রাসা ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ১ হাজারের বেশি কিশোরী ও তরুণী নেতৃত্ব, অধিকার, নাগরিক অংশগ্রহণ ও অ্যাডভোকেসি বিষয়ে প্রশিক্ষণ পেয়েছেন।
সেপ্টেম্বর ২০২৫ থেকে আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত চলা কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠান ঢাকার মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে অনুষ্ঠিত হয়। এতে নীতিনির্ধারক, কূটনীতিক, তরুণ নেতৃত্ব ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। উদ্যোগটির লক্ষ্য ছিল টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার লিঙ্গসমতা এবং শান্তি, ন্যায়বিচার ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানসংক্রান্ত লক্ষ্যকে স্থানীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নের সঙ্গে তরুণীদের নেতৃত্বকে যুক্ত করা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, নারীদের নেতৃত্বে সুযোগ দেওয়া শুধু ব্যক্তিগত বা পারিবারিক পরিবর্তনের বিষয় নয়; এটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা এবং দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। জুবাইদা রহমান বলেন, তরুণীরা নেতৃত্বের সুযোগ পেলে নিজেদের পাশাপাশি পুরো দেশের টেকসই ভবিষ্যৎ শক্তিশালী করতে পারে। পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকী তরুণীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সুযোগ দেওয়াকে অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের অন্যতম শর্ত হিসেবে তুলে ধরেন।
সমাপনী আয়োজনে নারী ও রাজনীতি, নারী ও কূটনীতি এবং গণমাধ্যমে লিঙ্গসমতা নিয়ে তিনটি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় সরকার ও জাতীয় রাজনীতিতে নারীদের কার্যকর প্রতিনিধিত্ব, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দক্ষ নারী কূটনীতিক তৈরি এবং গণমাধ্যমে নারীদের শুধু ভুক্তভোগী হিসেবে নয়, সামাজিক পরিবর্তনের সক্রিয় অংশীজন হিসেবে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
উদ্যোগটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক শ্রেণির তরুণীদের অন্তর্ভুক্তি। শহুরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকা, সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মাদ্রাসা ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর তরুণীরাও এতে অংশ নেন। তাঁদের অভিজ্ঞতা ও সংগ্রাম তুলে ধরতে ‘শি লিডস টুমরো’ নামে একটি স্মারক বই এবং আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।
বাংলাদেশে জাতিসংঘের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক সমন্বয়ক ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেজনিয়াক বলেন, টেকসই উন্নয়ন অর্জনে কাউকে পিছিয়ে রাখা যাবে না। অনুষ্ঠানে ‘বাংলাদেশ মডেল ফর এসডিজি লোকালাইজেশন’ নামে একটি সহযোগিতামূলক কাঠামোর কথাও তুলে ধরা হয়, যার লক্ষ্য স্থানীয় পর্যায়ে টেকসই উন্নয়ন বাস্তবায়নে তরুণীদের নেতৃত্বকে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করা।
জাতিসংঘ প্রকল্প সেবা দপ্তর ও জাতিসংঘ নারী সংস্থার প্রতিনিধিরা তরুণীদের নেতৃত্ব বিকাশের জন্য নিরাপত্তা, পরিবার ও প্রতিষ্ঠানের সহায়তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন। আয়োজকদের মতে, কর্মসূচির সমাপ্তি কোনো শেষ নয়; বরং গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজ, কূটনীতি ও জনপ্রশাসনে অংশ নেওয়া এসব তরুণীর দীর্ঘমেয়াদি নেতৃত্বের যাত্রার সূচনা।















