ইসরায়েলের দখলে থাকা সিরিয়ার গোলান মালভূমির ওপর ইসরায়েলের সার্বভৌমত্বের দাবিকে স্বীকৃতি দিয়েছে কলম্বিয়া। দেশটির নতুন কট্টর ডানপন্থী সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে ইসরায়েলের দখলদারিত্বকে স্বীকৃতি দেওয়া দেশের সংখ্যা দাঁড়াল দুইয়ে।
কলম্বিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার এক বিবৃতিতে জানায়, গোলান মালভূমিতে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ ও সার্বভৌমত্ব দেশটির জাতীয় প্রতিরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একই সঙ্গে বহিরাগত হুমকি থেকে নিজেদের রক্ষার অধিকার ইসরায়েলের রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
কলম্বিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত এলো। দেশটির নতুন সরকারের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি আগেই দেওয়া হয়েছিল। ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সার এ সিদ্ধান্তকে ঐতিহাসিক বলে স্বাগত জানিয়েছেন।
ইসরায়েল এক হাজার নয়শ একাত্তর সালে আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় সিরিয়ার কাছ থেকে গোলান মালভূমির অধিকাংশ দখল করে নেয়। পরে এক হাজার নয়শ একাশি সালে অঞ্চলটি নিজেদের সঙ্গে একতরফাভাবে যুক্ত করে ইসরায়েল। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অধিকাংশ দেশ এই পদক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে দুই হাজার উনিশ সালে যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে গোলানে ইসরায়েলের দাবিকে স্বীকৃতি দেয়।
জাতিসংঘ এখনো গোলান মালভূমিকে সিরিয়ার ভূখণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস গত মাসেও গোলানে ইসরায়েলের দখলকে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেন।
এক হাজার নয়শ তিয়াত্তর সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধে সিরিয়া গোলান মালভূমি পুনর্দখলের চেষ্টা করলেও সফল হয়নি। পরের বছর দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। এরপর দীর্ঘ সময় অঞ্চলটি তুলনামূলকভাবে শান্ত ছিল।
তবে সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদের সরকার পতনের পর দেশটিতে ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা বাড়তে থাকে। ইসরায়েল জাতিসংঘ পর্যবেক্ষিত বাফার অঞ্চলে সেনা মোতায়েনের পাশাপাশি দামেস্কের ওপর কৌশলগত নজরদারির সুযোগ তৈরি করে এমন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দখলে নেয়।
কলম্বিয়ার নতুন সরকারের এই সিদ্ধান্তের পেছনে দেশটির পররাষ্ট্রনীতির পরিবর্তনও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ও নীতির কঠোর সমালোচনা করেছিলেন। তাঁর সরকার ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন এবং দেশটি থেকে অস্ত্র আমদানি বন্ধ করেছিল।
নতুন প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন। একই সঙ্গে পশ্চিম তীরের রামাল্লায় দূতাবাস খোলার আগের সরকারের পরিকল্পনাও বাতিল করেছেন তিনি।
গোলান মালভূমির ওপর ইসরায়েলের দাবিকে কলম্বিয়ার স্বীকৃতি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করতে পারে। কারণ জাতিসংঘসহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশ এখনো অঞ্চলটিকে সিরিয়ার অধিকৃত ভূখণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে। ফলে কলম্বিয়ার এই সিদ্ধান্ত ইসরায়েল-সিরিয়া বিরোধের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর রাজনৈতিক সমীকরণেও প্রভাব ফেলতে পারে।
















