ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আনতে ইরাক সরকারের নির্ধারিত সময়সীমা ঘনিয়ে আসলেও সাম্প্রতিক সহিংসতা ও মিলিশিয়াদের প্রতিরোধে সেই উদ্যোগের সফলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বাগদাদের পক্ষে স্বল্প সময়ে এসব গোষ্ঠীকে পুরোপুরি নিরস্ত্রীকরণ করা অত্যন্ত কঠিন।
প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জায়েদি দায়িত্ব নেওয়ার পর রাষ্ট্রের বাইরে থাকা সব অস্ত্র সরকারি নিয়ন্ত্রণে আনার ঘোষণা দেন। সরকার জানিয়েছে, ৩০ সেপ্টেম্বরের পর রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা অস্ত্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্স (পিএমএফ), ফেডারেল পুলিশ, র্যাপিড রেসপন্স ফোর্স ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে একীভূত করার পরিকল্পনাও বিবেচনায় রয়েছে।
তবে বাস্তব পরিস্থিতি সরকারের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানঘনিষ্ঠ মিলিশিয়াদের হামলা, নুজাবা গোষ্ঠীর একটি ঘাঁটিতে সরকারি বাহিনীর ব্যর্থ অভিযান এবং সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের পাল্টা হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
এদিকে জর্ডানও সতর্ক করে বলেছে, ইরাকের ভূখণ্ড থেকে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর হামলায় তাদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়লে তারা সামরিক অভিযান চালাতে পারে।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, কিছু গোষ্ঠী আনুষ্ঠানিকভাবে অস্ত্র সমর্পণ বা পুনর্গঠনের কথা বললেও শক্তিশালী সংগঠন যেমন কাতায়েব হিজবুল্লাহ ও হারাকাত আল-নুজাবা নিরস্ত্রীকরণে রাজি নয়। একই সঙ্গে কয়েকটি গোষ্ঠী নতুন নামে বা আড়াল সংগঠন গড়ে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, যা সরকারি নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণকে আরও কঠিন করে তুলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ৩০ সেপ্টেম্বর পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের শেষ সময়সীমা নয়; বরং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। যদি পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত থাকে, তবে ইরাক ইরান ও তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের প্রক্সি সংঘাতের আরও বড় ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে।
















