ভারতের রাজধানী দিল্লির ঐতিহাসিক লালকেল্লার কাছে একটি গাড়ি বিস্ফোরণে অন্তত আটজন নিহত এবং বিশজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। সোমবার সন্ধ্যার এই ঘটনায় পুরো এলাকা মুহূর্তেই আতঙ্কে ভরে ওঠে।
স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিস্ফোরণে আশপাশের বেশ কয়েকটি যানবাহন আগুনে পুড়ে যায়। দিল্লি পুলিশের কমিশনার সতীশ গোলচা জানান, সন্ধ্যা সাতটার কিছু আগে একটি ধীরগতির গাড়ি লাল বাতিতে থামলে হঠাৎ সেটিতে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে পাশে থাকা অন্যান্য গাড়িগুলোও আগুনে পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
দিল্লির উপ-অগ্নিনির্বাপক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের পর ছয়টি গাড়ি এবং তিনটি অটোরিকশায় আগুন ধরে যায়। দমকলকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
বিস্ফোরণের কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনাস্থল লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের কাছাকাছি হওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এক বিবৃতিতে বলেন, “আমরা সব ধরনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছি। একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত পরিচালনা করা হবে, এবং তদন্তের ফলাফল প্রকাশ করা হবে।” তিনি আহতদের হাসপাতালে দেখতে যাওয়ারও ঘোষণা দিয়েছেন।
বিস্ফোরণের পর দিল্লি ও আশপাশের এলাকা, বিশেষ করে উত্তর প্রদেশ ও মুম্বাইয়ে, জারি করা হয়েছে উচ্চ সতর্কতা। ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে দেখা গেছে, পুরান দিল্লির ভিড়ভাট্টা রাস্তায় পুড়ে যাওয়া গাড়ির ধ্বংসাবশেষের মাঝখানে ছুটে বেড়াচ্ছে পুলিশ ও দমকলকর্মীরা।
লালকেল্লা, যা সপ্তদশ শতকে নির্মিত এক ঐতিহাসিক রাজপ্রাসাদ, এখনো ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। ঘটনাটি সেখানে নতুন করে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
স্বাধীন সাংবাদিক অমিত বারুয়া আল জাজিরাকে বলেন, “এটি শহরের সবচেয়ে জনবহুল এলাকাগুলোর একটি। স্বাভাবিকভাবেই এটি হামলার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এই বিস্ফোরণ রাজধানীর শান্তিকে নাড়িয়ে দিয়েছে।”
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে এক বিবৃতিতে বলেন, “আজ সন্ধ্যায় দিল্লিতে ঘটে যাওয়া বিস্ফোরণে যারা প্রিয়জন হারিয়েছেন, তাদের প্রতি গভীর সহানুভূতি জানাচ্ছি। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।”
















