ইতালির জেনোয়া শহরে ২০১৮ সালে সেতু ধসে ৪৩ জনের মৃত্যুর ঘটনায় শুরু হওয়া বহুল আলোচিত ফৌজদারি মামলার প্রথম রায় ঘোষণা করতে যাচ্ছেন আদালত। আট বছর পর এই রায়ের মাধ্যমে নিহতদের পরিবার ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা করছে।
১৯৬৭ সালে নির্মিত সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগের অংশ ছিল। তবে সময়ের সঙ্গে এর কাঠামোগত অবনতি নিয়ে বিশেষজ্ঞরা একাধিকবার সতর্ক করলেও প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
২০১৮ সালের ১৪ আগস্ট প্রবল বৃষ্টির মধ্যে সেতুর মাঝের বড় একটি অংশ ভেঙে প্রায় ৪৫ মিটার নিচে পড়ে যায়। সে সময় সেতুর ওপর প্রায় ৩০টি যানবাহন চলাচল করছিল। দুর্ঘটনায় ৪৩ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে ইতালির পাশাপাশি অন্যান্য দেশের নাগরিকও ছিলেন।
তদন্তে উঠে আসে, সেতুর একটি প্রধান ভারবাহী তার দীর্ঘদিনের ক্ষয় ও মরিচার কারণে ছিঁড়ে যাওয়ায় পুরো কাঠামো ভেঙে পড়ে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, বছরের পর বছর অপর্যাপ্ত ও ত্রুটিপূর্ণ রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় মেরামত বিলম্বিত করার কারণেই এই বিপর্যয় ঘটেছে। এছাড়া সেতুটি যে পরিমাণ যানবাহন বহন করছিল, তা এর নকশাগত সক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি ছিল বলেও বিশেষজ্ঞদের মত।
অন্যদিকে অভিযুক্তদের আইনজীবীদের দাবি, দুর্ঘটনার মূল কারণ ছিল নির্মাণকালীন নকশাগত ত্রুটি, যা নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে শনাক্ত বা প্রতিরোধ করা সম্ভব ছিল না।
এই মামলায় মোট ৫৯ জনের বিরুদ্ধে অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ড, পরিবহন নিরাপত্তা বিপন্ন করা এবং মিথ্যা তথ্য দেওয়ার মতো একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে সেতু পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা, রক্ষণাবেক্ষণ প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারাও রয়েছেন। তারা সবাই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
প্রসিকিউটররা প্রধান অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ডের আবেদন করেছেন। অন্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড চাওয়া হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর পুরোনো সেতুর স্থানে নতুন একটি আধুনিক সেতু নির্মাণ করা হয়, যেখানে স্বয়ংক্রিয় পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা ও ক্ষয়রোধী প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে। তবে নিহতদের স্বজনরা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেননি। তাদের বক্তব্য, নতুন সেতু নির্মাণ হলেও হারিয়ে যাওয়া প্রাণ আর ফিরে আসবে না; প্রকৃত দায়ীদের শাস্তিই তাদের কাছে সবচেয়ে বড় ন্যায়বিচার।
















