যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার রাতে একটি বিশেষ ভাষণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি এটিকে “খুব বড় ঘোষণা” বলে উল্লেখ করলেও ঠিক কী বিষয়ে কথা বলবেন, সে সম্পর্কে বিস্তারিত প্রকাশ করেননি। তবে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ভাষণের মূল বিষয় হবে নির্বাচন, ভোটব্যবস্থা এবং ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘিরে নতুন তথ্য।
ট্রাম্পের ভাষণ যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের কয়েক মাস আগে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সময়ে নির্বাচনী ইস্যুকে সামনে আনা আসন্ন ভোটের রাজনৈতিক পরিবেশে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ভাষণে ২০২০ সালের নির্বাচনসংক্রান্ত অবমুক্ত গোয়েন্দা তথ্য এবং ভোটিং যন্ত্রের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশাসনের উদ্বেগ তুলে ধরা হবে। ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন, ওই নির্বাচনে অনিয়ম হয়েছিল। তবে বিভিন্ন তদন্তে এমন দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
২০২০ সালের নির্বাচনে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেন ইলেক্টোরাল ভোট এবং জনপ্রিয় ভোট—উভয় ক্ষেত্রেই বিজয়ী হন। এরপর ট্রাম্প ফলাফল মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানান এবং নির্বাচন নিয়ে একাধিক অভিযোগ তোলেন। পরবর্তীতে এসব অভিযোগের বেশিরভাগই আদালত ও তদন্ত সংস্থাগুলোর কাছে প্রমাণিত হয়নি।
দায়িত্বে ফেরার পর ট্রাম্প প্রশাসন নির্বাচন ব্যবস্থায় বিভিন্ন পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে। নাগরিকত্বের প্রমাণ বাধ্যতামূলক করা, ডাকযোগে ভোটের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ এবং ভোটার তালিকা নিয়ে নতুন নীতির মতো বিষয়গুলো নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, এসব পদক্ষেপ ভোটাধিকার সীমিত করতে পারে। অন্যদিকে প্রশাসনের দাবি, এগুলো নির্বাচনী নিরাপত্তা জোরদারের জন্য প্রয়োজন।
ডেমোক্র্যাট নেতারা অভিযোগ করেছেন, ট্রাম্প তাঁর ভাষণের মাধ্যমে নির্বাচনী ব্যবস্থা নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারেন। তাদের মতে, প্রমাণহীন অভিযোগ সামনে এনে নির্বাচনের প্রতি জনগণের আস্থা দুর্বল করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বিশেষ ভাষণটি যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাতে হোয়াইট হাউস থেকে সম্প্রচার করা হবে। দেশের প্রধান টেলিভিশন নেটওয়ার্ক এবং সরকারি অনলাইন মাধ্যমে এটি সরাসরি প্রচার হওয়ার কথা রয়েছে।
















