ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কারণে পরিকল্পিতভাবে তাঁকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে আটক ও দেশ থেকে বহিষ্কারের চেষ্টা করা হয়েছে—এমন অভিযোগ এনে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা এবং কয়েকটি বেসরকারি সংগঠনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন ফিলিস্তিনপন্থী কর্মী মাহমুদ খলিল।
নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালতে দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, একটি প্রভাবশালী নীতিনির্ধারণী প্রতিষ্ঠান একটি পরিকল্পনার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনকে দুর্বল করার কৌশল গ্রহণ করে। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি প্রকাশকে ইহুদিবিদ্বেষের সঙ্গে যুক্ত করে দেখানোর চেষ্টা করা হয় এবং কয়েকটি সংগঠনের মাধ্যমে আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা হয়।
মামলায় আরও দাবি করা হয়েছে, প্রশাসনের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো পরস্পরের সমন্বয়ে এমন পদক্ষেপ নেয়, যার উদ্দেশ্য ছিল ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থান গ্রহণকারী বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে অভিবাসন আইন ব্যবহার করা। মামলায় ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি চলমান বহিষ্কার প্রক্রিয়ায় এসব অভিযোগকে ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার না করার নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।
আদালতের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মাহমুদ খলিল বলেন, এই মামলা শুধু তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার বিষয় নয়। তাঁর ভাষায়, এটি এমন একটি সমন্বিত কাঠামোকে সামনে আনার প্রচেষ্টা, যার মাধ্যমে ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি প্রকাশকারীদের দমন করার চেষ্টা করা হয়েছে।
স্থায়ী বসবাসের অনুমতিপ্রাপ্ত মাহমুদ খলিলকে গত বছর ফেডারেল কর্মকর্তারা গ্রেপ্তার করেন। এরপর তাঁকে দীর্ঘ সময় একটি অভিবাসন আটক কেন্দ্রে রাখা হয়। সেই সময় থেকেই তিনি আদালতে বহিষ্কারের আদেশের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
এক পর্যায়ে একটি ফেডারেল আদালত তাঁর মুক্তির নির্দেশ দিলেও পরে আপিলের পর বিষয়টি নতুন আইনি পর্যায়ে যায়। বর্তমানে আদালতের অন্তর্বর্তী নির্দেশে তাঁকে আটক বা দেশ থেকে বহিষ্কার করা হয়নি। মামলাটি শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ আদালতে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, অভিবাসনের আবেদন করার সময় মাহমুদ খলিল তাঁর পূর্ববর্তী একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য সঠিকভাবে উপস্থাপন করেননি। তবে তাঁর আইনজীবীরা এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থাও জানিয়েছে, তিনি সেখানে কখনো কর্মচারী ছিলেন না; অল্প সময়ের জন্য শিক্ষানবিশ হিসেবে যুক্ত ছিলেন।
খলিলের আইনজীবীদের দাবি, এই মামলার মাধ্যমে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন পক্ষের সমন্বয়ে কীভাবে নির্দিষ্ট মতাদর্শের বিদেশি শিক্ষার্থীদের লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছে, সেটি আদালতের সামনে তুলে ধরা হবে। তাঁদের মতে, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহারের বিষয়টি বিচারিকভাবে পর্যালোচনা হওয়া প্রয়োজন।
মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, অভিবাসন নীতি এবং ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনকে ঘিরে চলমান বিতর্ককে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। আগামী দিনগুলোতে এ মামলার অগ্রগতি দেশটির রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
ট্যাগ: মাহমুদ খলিল, যুক্তরাষ্ট্র, ফিলিস্তিন, অভিবাসন, আদালত
















