ইরানের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক অভিযান এবং ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও গভীর করার প্রস্তাবের বিরোধিতা করে বার্ষিক প্রতিরক্ষা নীতিমালা বিলের (এনডিএএ) ওপর বিতর্ক শুরু হতে দেয়নি মার্কিন সিনেটের ডেমোক্র্যাটরা।
মঙ্গলবার সিনেটে ৫০-৪৬ ভোটে বিলটি নিয়ে আলোচনা শুরুর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হয়। ১০০ সদস্যের সিনেটে বিতর্ক শুরু করতে প্রয়োজন ছিল ৬০ ভোট। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত প্রায় ১ দশমিক ১৫ ট্রিলিয়ন ডলারের সামরিক বাজেটের বড় অংশ অনুমোদনের পথ আপাতত আটকে গেছে।
সিনেটে ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকির মধ্যে কংগ্রেস জাতীয় প্রতিরক্ষা বিল নিয়ে স্বাভাবিকভাবে এগোতে পারে না। তাঁর ভাষায়, এই বিল পাস হলে কংগ্রেসের পর্যাপ্ত তদারকি ছাড়াই ট্রাম্প প্রশাসন ইরানে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার কার্যত অনুমতি পাবে।
ডেমোক্র্যাটদের আপত্তির আরেকটি বড় কারণ হলো বিলের এমন কয়েকটি ধারা, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক ও গোয়েন্দা সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করবে। একটি প্রস্তাবে পেন্টাগনে বিশেষ সমন্বয়কারী নিয়োগের কথা বলা হয়েছে, যিনি দুই দেশের যৌথ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি গবেষণা, অস্ত্র উন্নয়ন এবং সামরিক প্রযুক্তির সমন্বয় তদারকি করবেন।
এছাড়া “ডাটা ফিউশন” বা বিভিন্ন সেন্সর ও গোয়েন্দা তথ্য একত্রিত করে লক্ষ্য নির্ধারণের ব্যবস্থাও সম্প্রসারণের প্রস্তাব রয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর আশঙ্কা, এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র এমন গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করতে পারে, যা ইসরায়েলের বিতর্কিত গণ-নজরদারি কর্মসূচি থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।
এনডিএএর পাশাপাশি বিবেচিত ২০২৭ সালের গোয়েন্দা অনুমোদন বিলেও ইসরায়েলের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যা নিয়েও আপত্তি তুলেছেন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা।
সিনেটর ক্রিস ভ্যান হলেন, বার্নি স্যান্ডার্স, এলিজাবেথ ওয়ারেন, এড মার্কি, জেফ মার্কলি ও পিটার ওয়েলচসহ কয়েকজন ডেমোক্র্যাট আগেই সহকর্মীদের উদ্দেশে চিঠি দিয়ে বিলটির অগ্রগতি ঠেকানোর আহ্বান জানান। তাঁদের মতে, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক আরও গভীর করার আগে এসব বিষয় নিয়ে পূর্ণাঙ্গ বিতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
এদিকে আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (ACLU), জে স্ট্রিট, কোডপিঙ্ক ও উইন উইদাউট ওয়ারসহ ১৪টি নাগরিক অধিকার ও যুদ্ধবিরোধী সংগঠনও সিনেট সদস্যদের বিলটির বিরোধিতা করার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের দাবি, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনার জন্য কোনো অর্থ বরাদ্দ দেওয়া উচিত নয়।
সাম্প্রতিক জরিপগুলোও দেখাচ্ছে, ডেমোক্র্যাট ভোটারদের মধ্যে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ফলে দলটির ভেতরে মধ্যপ্রাচ্য নীতি, বিশেষ করে ইসরায়েল ও ইরান প্রশ্নে নতুন রাজনৈতিক বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
















