গাজায় টানা তৃতীয় গ্রীষ্মও কাটছে যুদ্ধের ভয়াবহতার মধ্যে। একসময় ছুটির দিনে খেলাধুলা, ভ্রমণ, চিত্রাঙ্কন ও নানা আনন্দঘন কার্যক্রমে ব্যস্ত থাকলেও এখন অধিকাংশ শিশুর দিন শুরু হয় পানি সংগ্রহ, খাবার আনা এবং জ্বালানির জন্য কাঠ কুড়ানোর মতো কঠিন কাজে।
সন্তানদের আনন্দময় সময় উপহার দিতে না পারার কষ্টের কথা জানিয়েছেন অনেক মা। তাদের ভাষ্য, খেলনা, খাতা, রঙ, কাগজ কিংবা শিশুদের মানসিক বিকাশে সহায়ক কোনো উপকরণই এখন সহজলভ্য নয়। ফলে অবসর সময় কাটানোর মতো সুযোগও প্রায় নেই।
একজন মা জানান, স্বামী নিহত হওয়ার পর সন্তানদের বড় করার পুরো দায়িত্ব এখন তার কাঁধে। সংসারের প্রয়োজন মেটাতে গিয়ে শিশুদেরও বিভিন্ন কাজ করতে হচ্ছে। তার মতে, যে বয়সে শিশুদের খেলাধুলা ও শেখার কথা, সেই সময় তারা পরিবারের দায়িত্ব বহন করছে।
শিশুদের নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মূল্যায়নেও একই চিত্র উঠে এসেছে। তাদের মতে, নিরাপদ পরিবেশ, শিক্ষা, খেলাধুলা এবং মানসিক বিকাশের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ায় গাজার শিশুদের স্বাভাবিক বেড়ে ওঠা মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
তবে সীমিত পরিসরে কিছু স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ এখনো শিশুদের জন্য সামান্য স্বস্তি এনে দিচ্ছে। কিছু শিশু সপ্তাহে একদিন করে গ্রীষ্মকালীন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। ওই দিনটির জন্য তারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে এবং আনন্দের সঙ্গে প্রস্তুতি নেয়।
আরেকজন মা জানান, যেসব শিশু এমন কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারে, তাদের আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যায়। তারা মানসিকভাবে কিছুটা স্বস্তি পায়, অন্যদের সঙ্গে মিশতে শেখে এবং পরিবারের ভেতর উত্তেজনাও কমে আসে।
সন্তানদের মুখে হাসি ফোটাতে তিনি একটি দাতব্য সংস্থার দেওয়া রঙ ও আঁকার কাগজ ব্যবহার করে প্রতিদিন কিছু সময় তাদের নিয়ে ছবি আঁকেন। তার বিশ্বাস, অল্প সময়ের এই সৃজনশীল কার্যক্রমও শিশুদের মানসিক অবস্থার উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ড শিশুদের জন্য বিলাসিতা নয়, বরং সুস্থ শৈশব ও মানসিক বিকাশের অপরিহার্য অংশ। কিন্তু চলমান সংঘাতের কারণে গাজার অসংখ্য শিশু সেই মৌলিক অধিকার থেকেই বঞ্চিত হচ্ছে।
















