ইন্দোনেশিয়ার রাজধানীর উপকণ্ঠে অবস্থিত একটি বড় বর্জ্যভূমিতে টানা আট দিন ধরে আগুন জ্বলছে। আগুন ইতোমধ্যে প্রায় ১৫ হেক্টরেরও বেশি এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। ঘন বিষাক্ত ধোঁয়ায় আশপাশের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হওয়ায় শত শত মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, দূষিত বাতাসের কারণে শ্বাসকষ্ট ও শ্বাসতন্ত্রের নানা রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। এ পর্যন্ত অন্তত ২৩৪ জনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে, যার মধ্যে ৭২ জনের তীব্র শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।
আগুন নিয়ন্ত্রণে দমকল বাহিনীর পাশাপাশি হেলিকপ্টার, পানিবাহী যান, বুলডোজার ও ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। কর্মকর্তারা চলতি সপ্তাহের মধ্যেই আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনার আশা প্রকাশ করেছেন।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা জৈব বর্জ্য পচে ভূগর্ভে সৃষ্টি হওয়া মিথেন গ্যাসে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। প্রবল বাতাসের কারণে ছোট একটি আগুন দ্রুত বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে এবং উঁচু করে ফেলা আবর্জনার স্তূপের ভেতরে দাউদাউ করে জ্বলতে শুরু করে।
পরিবেশবিদরা বলছেন, এটি কেবল একটি অগ্নিকাণ্ড নয়, বরং দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ফল। তাদের মতে, খোলা স্থানে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে আবর্জনা ফেলার কারণে বিপুল পরিমাণ মিথেন গ্যাস জমে থাকে, যা সামান্য স্ফুলিঙ্গ বা অতিরিক্ত তাপেই বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডে রূপ নিতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগুন লাগার আগেও দুর্গন্ধ, মাছির উপদ্রব এবং আবর্জনার পাহাড় ধসে পড়ার আশঙ্কা নিয়ে তাদের বসবাস করতে হতো। আগুনের পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। অনেকেই বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে শ্বাস নিতে না পেরে বাড়িঘর ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে চলে গেছেন।
সরকার জানিয়েছে, আগুন পুরোপুরি নেভানোর পর ঘটনার কারণ তদন্ত করা হবে। একই সঙ্গে আগামী মাসে দেশজুড়ে শত শত বর্জ্যভূমির ব্যবস্থাপনা পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু জরুরি ব্যবস্থা নিলেই সমস্যার সমাধান হবে না। উৎস পর্যায়ে বর্জ্য কমানো, জৈব ও অজৈব বর্জ্য আলাদা করা এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু না হলে ভবিষ্যতেও এ ধরনের পরিবেশগত বিপর্যয় ঘটতেই থাকবে।
















